ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল হয়ে পড়েছে গোপালগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা।
তারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ থেকে ৬০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। কখনও কখনও শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের লো ভোলটেজে এসি, ফ্রিজ অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি চলছে না। জরুরি সার্ভিসগুলো বিকল হয়ে পড়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
গত মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।”
শহরবাসীকে এ দুর্ভোগ থেকে দ্রুত অব্যাহতি দেওয়ার দাবি হানিফ।
গত রোববার (৩ অক্টোবর) পূজার প্রস্তুতি সভায় জেলার পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়েও কাউকে পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”
গোপালগঞ্জ শহরের কবরস্থান রোডের বাসিন্দা সাজেদুর রহমান পিন্টু বলেন, প্রতি ঘণ্টায় ১৫/২০ মিনিট পরপর লোডশেডিং করা হয়। গত কয়েক মাস ধরে এ অবস্থা চলছে।
শহরের মিয়াপাড়ার বাসিন্দা রোকনুজামান বলেন, গোপালগঞ্জ শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সবচেয়ে নাজুক। অন্য শহরে এত বেশি বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কাজ-কর্ম, জরুরী সার্ভিস, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের মধ্যপাড়ার নাছিম শেখ বলেন, “গোপালগঞ্জ শহর লোডশেডিং এর শহরে পরিণত হয়েছে। এখানে যতবার বিদ্যুৎ যায়; গ্রামেও অতবার বিদ্যুৎ যায় না। আমরা নিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই।”
এদিকে দুর্গাপূজায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. অসিত কুমার মল্লিক।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মমিন জানান, শহরে ২২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে শহরে বিভিন্ন প্রকল্পের করা হচ্ছে। এ জন্য কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ফিউজ উড়ে গিয়ে কোন কোন এলাকায় লো-ভোলটেজ হচ্ছে। কখনো কখনো ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। আবার অতিরিক্ত লোডের কারণে সাটডাউন করতে হয়।
মমিন বলেন, গোপালগঞ্জ শহরে অসংখ্য হাইরাইজ বিল্ডিং উঠেছে। আবার নতুন নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে। এসব ভবনে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের ওপর দিন দিন চাপ বাড়ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এটিও একটি অন্যতম কারণ।
তবে পূজার আগেই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
