পৃথিবীর প্রবল বিত্তশালী ব্যক্তি যারা, তারা অবসর কাটানোর জন্য যদি পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত কোনো একটি দ্বীপ ক্রয় করে ব্যক্তি মালিকানাধীন করে ফেলেন, খুব কি অবাক হবেন?
বিশ্বের বহু বিত্তশালী ব্যক্তি রয়েছেন যারা তাদের বিলাসিতার রাজত্বের পরিধি বৃদ্ধির জন্য দ্বীপ ক্রয় করেছেন।
এর প্রচলন শুরু হয়েছে ষাটের দশক থেকে, যখন প্রয়াত শিপিং ব্যবসায়ী অ্যারিস্টটল ওনাসিস তার দ্বীপ গ্রীক আইল্যান্ড স্করপিয়সে ফার্স্ট লেডি জ্যাকলিন কেনেডির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
কেউ দ্বীপ কেনেন সেখানে পর্যটন খাত গড়ে তুলে নিজের বিশাল সম্পদের পরিমাণ আরেকটু বাড়িয়ে নিতে। আবার অনেকে দ্বীপ কেনেন কেবলই ব্যক্তিগত আয়েশের জন্য।
তাদের আরাম-আয়েশ দেখে হিংসে হচ্ছে? কোনো সমস্যা নেই, যথেষ্ট সম্পদের মালিক হলে আপনিও কিনে নিতে পারবেন একটি দ্বীপ। ‘প্রাইভেট আইল্যান্ডস ইনকর্পোরেশন,’ ‘ভ্লাডি প্রাইভেট আইল্যান্ডস’ এর মতো বেশকিছু ওয়েবসাইটে দ্বীপ কেনাবেচা হয়। ‘মাত্র’ কয়েক লক্ষ ডলার খরচ করে চাইলেই কিনে নিতে পারেন কোন একটি দ্বীপ!
ল্যারি এলিসন (লানাই, হাওয়াই)
বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ডাটাবেজ সফটওয়্যার ‘ওরাকল’ এর সত্ত্বাধিকারী লরেন্স জে. এলিসন ২০১২ সালে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে হাওয়াই-এর লানাই দ্বীপের প্রায় ৯৮ শতাংশ মালিকানা কিনে নেন।
পরিবেশবান্ধব উপায়ে দ্বীপটি একটি দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে নির্মাণ করতে এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য তিনি দ্বীপটি কিনেছিলেন।
টেড টার্নার (সেইন্ট ফিলিপস আইল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলিনা)
ঐতিহাসিক চার্লসটন ও সাভানাহ সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি সাউথ ক্যারোলিনা উপকূলে অবস্থিত সেইন্ট ফিলিপস দ্বীপপুঞ্জে বিখ্যাত নিউজ চ্যানেল সিএনএন এর প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার তার পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধবসহ প্রায় ৩৫ বছরের অধিক সময় জুড়ে সমুদ্র ভ্রমণ, মাছ ধরা ও বিনোদনের জন্য অবস্থান করেছেন। এই দ্বীপটি তিনি ১৯৭৯ সালে কিনেছিলেন।
রিচার্ড ব্রানসন (নেকার আইল্যান্ড, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস)
১৯৭৮ সালে তিনি বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের নেকার আইল্যান্ডটি ক্রয় করেন এবং এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি এখানে বেশকিছু রিসোর্ট গড়ে তুলেন।
জন কার্ল ম্যালন (স্যাম্পসন কে, দ্য বাহামাস)
আমেরিকার বিশিষ্ট ধনকুবের এবং টিসিআই-এর প্রাক্তন চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার জন কার্ল ম্যালন বাহামা দ্বীপপুঞ্জের স্যাম্পসন দ্বীপকে কিনে নেন। প্রথমে দ্বীপটিতে ক্লাব, রিসোর্ট, রেস্তোরা এবং মারিনা নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দ্বীপটি বানিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হত।
কিন্তু ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ম্যালন দ্বীপটিকে সংস্কার করে পরিবার নিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ ও অবসর সময় কাটানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই অনুযায়ী সাজিয়ে তোলেন।
লুইস ম্যুর বেকন (রবিনস আইল্যান্ড)
১৯৯৩ সালে বেকন দ্বীপটি ক্রয় করেন লুইস। দ্বীপের ওক গাছের মতো বিলুপ্তপ্রায় গাছ এবং প্রাণী যেমন ইস্টার্ন মাড টার্টল নামক এক ধরণের কচ্ছপ সংরক্ষণে তিনি কাজ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে ছুটি কাটানোর জন্য তিনি হেলিপ্যাডসহ সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
