প্রায় এক মাস আগে বগুড়া-ঢাকা রুটের সোনারতরী পরিবহনের বাসে ডাকাতির সময় দুই নারীকে ধর্ষণের স্বীকারোক্তি গ্রেপ্তার এক ডাকাত দিলে তাদের খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এই বাস ডাকাতির ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাওয়া গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ার শঙ্কায় হয়ত ওই নারীরা প্রকাশ্যে আসছেন না। তবে তাদের খুঁজে না পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার ডাকাতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ওয়াহেদুল ইসলাম মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক ডাকাত বাসের মধ্যে যাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তবে আমরা এখনও নির্যাতিতকে পাইনি।”
গত ১৪ জানুয়ারি বগুড়া থেকে ঢাকার পথে ছেড়ে আসা সোনার তরী পরিবহনের বাসটি যাত্রীবেশী ডাকাতদের কবলে পড়ে।
অন্য এক বাসে উঠে ডাকাতদের কবলে পড়া এক চিকিৎসকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস ‘ভাইরাল’ হওয়ার পর বাস ডাকাত ধরতে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়। ছয়টি থানায় বাস ডাকাতির সাতটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এর মধ্যে সোনারতরী পরিবহনে ডাকাতির ঘটনায় সাভার থানায় করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তারা হলেন- নাঈম হোসেন (২০), রাসেল আকন্দ (২৭), রফিকুল ইসলাম (২১), মজিদুল ইসলাম (৩৮), আবদুল মজিদ (৩৮) ও আলমগীর প্রধান (৩২)।
ওই মামলার তদন্তে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই বাসে ডাকাতি করতে অ্যালেঙ্গা থেকে উঠেছিল ১০ জন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, ডাকাতির এক পর্যায়ে বাসে থাকা এক তরুণীকে পেছনের আসনে নিয়ে ধর্ষণ করে পেট কাটা শাহীন ও জাকির নামে দুজন। পরে আরও এক তরুণীকে পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই তরুণী তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে বাসে ভ্রমণ করছিলেন।
শাহীন ও জাকির এখনও ধরা পড়েননি।
বাসটির চালক মো. পাভেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাসে দুজন নারী যাত্রী ছিলেন। একজন বয়স্ক, একজন কম বয়স্ক। তবে বাস ফেলে ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি ওই যাত্রীদের দেখতে পাননি।
তার ধারণা, ওই যাত্রীদের ডাকাতেরা কোথাও নামিয়ে দিয়েছে।
ডাকাতির শিকার বাস চালক ও হেলপার এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতদের দেওয়া ঘটনার বর্ণনা থেকে জানা যায়, বাসটি ১৪ জানুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে বগুড়া ছেড়ে আসে। যমুনা সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইলের অ্যালেঙ্গা থেকে ৭-৮ জন যাত্রী তোলা হয়। ওই যাত্রীদের কয়েকজন ইঞ্জিন কাভারে বসে ছিলেন। বাসটি সাভার এলাকায় আসার পর ডাকাতেরা বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর তারা বাসটি ইউ টার্ন নিয়ে আবারও টাঙ্গাইলের দিকে চালাতে থাকে। সারারাত চলার পর ভোরের দিকে ডাকাতেরা বাসটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়।
চালক পাভেল বলেন, ওইদিন বাসটি ঢাকায় আসার পরে সাভারের নবীনগর থেকে সেলিম নামের এক যাত্রী ওঠেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সাভারের গেণ্ডা এলাকায় ডাকাতেরা ডাকাতি শুরু করেন। রাতভর অস্ত্রের মুখে বাসকর্মী ও যাত্রীদের বেঁধে রেখে ডাকাতি চালালেও তারা সেলিমকে কিছু করেনি। সেলিমের কাছ থেকে টাকা বা মুঠোফোন কিছুই নেয়নি ডাকাতেরা। থানায় আসার পর সেলিমের ভাষ্য, জান বাঁচাতে তিনি ডাকাতদের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
চালক পাভেল বলেন, ওই সেলিম ডাকাতি ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছিলেন। ঘটনার পর সেলিম অন্য যাত্রীদের মতোই বাড়ি ফিরে যান।
