করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে বিগত বছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাসওয়ারী উপাত্ত সমন্বয় করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৬০ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। আর ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৯৩৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায় যে গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৯৬৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার যা তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাত শতাংশ কম। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়কালে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল এক হাজার ৪০ কোটি ৩১ লাখ ডলার।
তবে ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পণ্য রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছিল। এ সময় পণ্য রপ্তানি হয় মাত্র ৪৭০ কোটি ডলারের, যা ছিল তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ শতাংশ কম।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) গত অক্টোবর মাসে বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির ওপর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়েছিল, কোভিড-১৯ যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপদ ঘটিয়েছে, তা বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের কোনো অঞ্চলই রপ্তানির পতন এড়াতে পারেনি। ২০১৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় গেলো বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্ব বাণিজ্য কমে গিয়েছিলো ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশও এই ধারার বাইরে ছিল না।
অবশ্য বিগত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় পুনরায় ঘুরে দাঁড়ায় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ১১০ শতাংশ বেড়ে ৯৮৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। এটি ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেশি।
ইপিবির তথ্যানুসারে, বিগত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৩৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার যা ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ কম।
