বাজেট ঘাটতি: বৈশ্বিক মহামারী সহায়তা কর্মসূচি চলছে ‘হাওয়ার ওপর’


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: February 09, 2022 10:42:15 | Updated: February 10, 2022 13:03:32


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ব্রুস আইলওয়ার্ড। ফাইল ছবি, রয়টার্স

দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষা, চিকিৎসা ও টিকার ব্যবস্থা করতে বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক বছরের যে তহবিল যোগানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল, তার মাত্র ৫ শতাংশ জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং অন্য দাতা সংস্থাগুলো। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রয়টার্স জানিয়েছে, দ্য একসেস টু কোভিড-১৯ টুলস (এসিটি) একসেলেটর কর্মসূচির অধীনে এ বছর দরিদ্র দেশগুলোতে সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

লক্ষ্য পূরণে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই হাজার ৩৪০ কোটি ডলারের বাজেট করা হয়, যার মধ্যে এক হাজার ৬৪০ কোটি ডলার ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে সাহায্য হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল।

অথচ এ পর্যন্ত মাত্র ৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন এই উদ্যোগের নেতারা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ডব্লিউএইচওর স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের শুভেচ্ছা দূত গর্ডন ব্রাউন বলেন, আমাদের যা চাহিদা, তার মাত্র ৫ শতাংশ এটা। এখন বিশ্বের বিবেক জাগ্রত হওয়ার সময়।

ডব্লিউএইচওর পাশাপাশি কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপার্ডনেস ইনোভেশন, দ্য গ্লোবাল ফান্ড, এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনও এই কর্মসূচিতে যুক্ত আছে।

বুধবার বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা আরও তহবিল সংগ্রহের জন্য প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা করবেন; এ বছরের মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারীর খারাপ পর্যায়টির অবসান ঘটাতে তারা বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।

বিশ্বজুড়ে সবার টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গঠিত জোট কোভ্যাক্সকে ঘিরেই এসিটি-এক্সিলারেটর হাব কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কোভিড পরীক্ষা ও এর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগের সমন্বয়ক ও ডব্লিউএইচওর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ব্রুস আলিওয়ার্ড বলেন, তহবিলের অভাবে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে গেছে। বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচিটি যেন হাওয়ার ওপর চলছে।

মহামারীর শুরু থেকে এই কর্মসূচিতে তহবিলের সংকট দৃশ্যমান হয়। এর গত বাজেটে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। অংশীদাররা বলছে, তহবিল যা পাওয়া গেছে, তার বেশিরভাগ টিকার পেছনেই খরচ হয়ে গেছে। কোভিড পরীক্ষা, চিকিৎসা ও উপকরণ সরবরাহের লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি থেকে গেছে।

২০২১ সালের মধ্যে ২০০ কোটি ডোজ টিকা পৌঁছানোর যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল, তা পূরণেও অনেক পেছনে থেকে গেছে এটিসি-এক্সিলারেটর কর্মসূচি। গত বছর নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ এক ডোজ টিকা পেয়েছে, অথচ ধনী দেশগুলোতে এই হার ৬৪ শতাংশ বলে জানা গেছে ডব্লিউএইচওর তথ্য থেকে।

গর্ডন ব্রাউন এ কর্মসূচির জন্য ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার আহ্বান রেখেছেন ধনী দেশগুলোর প্রতি; তাদের অর্থনীতির আকারের আনুপাতিক হারে তহবিল বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন, যা অনেকটা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে তহবিল যোগানোর মডেলের মত হবে।

Share if you like