ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাংকের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন শিল্পগোষ্ঠী বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফেরদৌস খান আলমগীর।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সিটি ব্যাংকের করা মামলায় গত ২৮ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, “ঋণ খেলাপির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে লালদীঘির পাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
ফেরদৌস খান আলমগীর।ফেরদৌস খান আলমগীর।কোতোয়ালি থানা এলাকার ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার দোভাষ বাড়ির পাশে ফেরদৌসের পৈত্রিক বাড়ি। তিনি ফেরদৌস এন্টারপ্রাইজেরও চেয়ারম্যান।
বাগদাদ গ্রুপের ব্যবসা আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, কৃষি, সামুদ্রিক মৎস প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, বীমাসহ নানা খাতে ছড়িয়ে রয়েছে।
সিটি ব্যাংকের আইনজীবী নাঈম ভুঁইয়া বলেন, “ফেরদৌস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৩১ কোটি ৫৬ লাখ ১৩৬২ টাকা। ঋণ নিয়ে তিনি তা পরিশোধ করেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
“এরপর ২০১২ সালের জারি মামলা করা হয়। এতে উকিলের মাধ্যমে আদালতে আপত্তি জানালেও তিনি হাজির হননি। সবশেষ গত মাসে অর্থঋণ আদালতে আবেদন করা হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।”
গ্রেপ্তারের পর বুধবারই ফেরদৌসকে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান আইনজীবী নাঈম।
এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান চট্টগ্রামের শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। বিভিন্ন সময় পরোয়ানা জারির পরও ঋণখেলাপিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরদিনই ফেরদৌস খান আলমগীর গ্রেপ্তার হলেন।
চলতি বছর চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত থেকে এক হাজার ৩৭৩টি পরোয়ারা জারি করা হলেও এর বিপরীতে আসামি গ্রেপ্তারের হার খুব কম। এতে যথাসময়ে মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছিল না।
