বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অনাবাদী পড়ে থাকা জমি ইজারা দিয়ে নানা ধরনের ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে পূর্ব-মধ্য আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদান। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী দেং দাউ দেং মালেকের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এসময় দক্ষিণ সুদানের উপমন্ত্রী সেদেশে কৃষি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
দেং দাউ বলেন, কৃষিখাতে আমরা বাংলাদেশের সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। আমাদের বিশাল পতিত জমিতে ফসল উৎপাদন করে নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানিও করতে চাই।
বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ সুদানে ছয় লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি জমি রয়েছে। এর বেশির ভাগ জমি পতিত পড়ে থাকে, চাষাবাদ হয় না।
এ বিশাল এলাকাকে কৃষি উৎপাদনের আওতায় এনে অনেক ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে দেশের সরকারের মালিকানায় বা খাস জমি ইজারা নিয়ে ফসল উৎপাদনের ব্যাপারে অনেকদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে।
দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অনেকে এ সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুদানে কী ফসল উৎপাদন করা যায়, জমি কীভাবে চাষের আওতায় আনা যায়, তা দেখতে দেশটিতে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞ দলে কৃষি গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মীসহ বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।
বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের যারা বিনিয়োগ করতে চায়, তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাব। শ্রমিক পাঠানোসহ এসব বিষয়ে সরকারই উদ্যোগ নেবে।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার, দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মেয়ম অ্যালিয়েন, ইথিওপিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম, সেনা কল্যাণ সংস্থার উপমহাপরিচালক কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ
দেং দাউ দেং মালেক নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধি দলটি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও মঙ্গলবার দেখা করেছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সাক্ষাতকালে পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার ভূয়সি প্রশংসা করেন এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট সমূহের স্বতঃস্ফূর্ত কর্মকাণ্ড ও সে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো গত উন্নয়নে বিশেষ অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন।
এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ সুদান এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে প্রতিরক্ষা বাহিনী।
সেনাসদর হেলমেট কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধি দলের সামনে সেনাবাহিনী প্রধান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়।
সেনাবাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধি দলটি সেনামালঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজেও অংশ নেয়।