Loading...

বন্দর থেকে ৬৪ পচনশীল পণ্যের দ্রুত খালাস

খাদ্যদ্রব্যের বিশাল রপ্তানি, আমদানিকৃত দ্রব্যের দ্রুত আগমন


| Updated: September 01, 2021 16:56:11


বন্দর থেকে ৬৪ পচনশীল পণ্যের দ্রুত খালাস

সরবরাহ ব্যাবস্থা ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নতুন জারিকৃত বিধিমালা অনুসারে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীসহ প্রায় ৬৪ রকম রপ্তানী ও আমদানি পন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দর থেকে ছাড়া পাবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই পণ্যগুলোকে পচনশীল পণ্যের তালিকাভুক্ত করেছে।

এ বিধিমালা অনুযায়ী, শুল্ক কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের পর তাদের কাছে বিল অফ এন্ট্রি জমা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্যগুলো বন্দর ছাড়বে।

এই মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাস ও নিষ্পত্তিকরণ বিধিমালা - ২০২১’ প্রণয়ন করেছে। এই বিধিমালা কার্যকর হয়েছে গত ১১ই আগস্ট থেকে।

রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই বিধিমালা জারি করাতে পচনশীল দ্রব্যের মান ও পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখে তাদের খালাস করা যাবে।

চালানকৃত পণ্য গ্রহণ করতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং অন্য প্রতিনিধিদের বিলের অফ এন্ট্রির সাথে সত্যায়িত আমদানি-রপ্তানির প্রতিলিপি জমা দিতে হবে।

বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নন-ইন্ট্রুসিভ ইন্সপেকশন বা কায়িক পরিদর্শনের ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে দ্রুততার সাথে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিদর্শনের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রতিটি শুল্কভবন পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কর্মকর্তাদের একটি দল বা শাখা নিয়োজিত করবে।

তবে পচনশীল দ্রব্য খালাসের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময়ের বিধি বকেয়া রাজস্ব বা আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের সাথে বিরোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ক্ষেত্রমতে পন্য খালাসের জন্য ‘বিশেষায়িত সনদপত্র’ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, কৃষি নিরোধক বিভাগ এবং মৎস্য কোয়ারেন্টিন বিভাগ কিছু আমদানি-রপ্তানি দ্রব্যের জন্য এরকম বিশেষায়িত সনদপত্র প্রদান করে থাকে।

পচনশীল দ্রব্যের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যে বিবৃতি থাকলে বা তাদের নিষ্পত্তিকরণে বিলম্ব হয়ে পণ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নিলামে তুলে দেবে।

কোনো কারণে দ্রুত পচনশীল কোনো দ্রব্য, যেমন: চিনি এবং লবণ নিলামে তোলা সম্ভব না হলে সেগুলো বাংলাদেশ বাণিজ্য কর্পোরেশনের (টিসিবি) কাছে হস্তান্তর করা হবে অথবা তাদের মূল্য নির্ধারণ করে টিসিবির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পণ্যদ্রব্য হস্তান্তর করার পর কোনো ব্যাঘাত না ঘটলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিলাম সম্পন্ন করতে হবে। 

উপরোল্লিখিত বিধিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আপিল করতে পারবে অথবা রাজস্ব বোর্ডের কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে জবাব দিতে পারবে।

এই বিধির পচনশীল দ্রব্যের তালিকায় রয়েছে ভোজ্য তেল, চা পাতা, কফি, ওষুধ (৬ মাসের মেয়াদযুক্ত), ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্রসাধনী, খাদ্য দ্রব্য, কিসমিস, সয়াবেরি ডি, মিছরি, তেঁতুল, তাজা ও হিমায়িত সবজি, কাঁচা হলুদ, আদা, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ, পান পাতা, কাঁচা চামড়া, সার, বাদাম, গুড়, মাখন, ঘি, নারকেল, সুপারি, হিমায়িত  ও লবণাক্ত মাছ, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত মাংস, শুঁটকি, আঁচার, চানাচুর, নুডলস, চিপ্স, সেমাই, বিস্কুট, চকোলেট, মুরগি, হাঁস ও অন্য পাখির ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, সাধারণ লবণ, টেস্টিং সল্ট, বিট লবণ, চিনি, ডাল, মটর ডাল, খাদ্যশস্য, আলুর বীজ, তেলবীজ, তামাক (প্রক্রিয়াজাত নয়), খেজুর, তাজা ফল, তাল, কাঁচা রাবার, তাজা ক্যাপসিকাম ও ফুল, মাশরুম, জীবন্ত গাছপালা ও চারা, ইস্ট, ভাজা মাছ, জ্যান্ত মাছ, মুরগি, হাঁস, পাখি ও প্রাণী ইত্যাদি।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই), বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনস, দেশের সকল বন্দরের কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সুপারিশে প্রথমবারের মতো এরকম কোনো বিধিমালা জারি হয়েছে।

এনবিআর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির (টিএফএ) শর্ত মোতাবেক এই বিধিমালার খসড়া করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো ‘ব্যবসাকে সহজ করা।’

এই চুক্তি অনুযায়ী, রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে দ্রুত গতিতে পচনশীল পণ্যের ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে।

আমদানিকারক এবং ক্লিয়ারিং-ফরোয়ার্ডিং প্রতিনিধিরা নতুন নিয়মগুলোকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। তারা আশা করেন, এই বিধিমালার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের নিষ্পত্তিকরণ প্রক্রিয়া আগের চেয়ে সহজ ও দ্রুত হবে।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফিরোজ আহমেদের কাছ থেকে জানা যায়, নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম না থাকার কারণে আগে পচনশীল দ্রব্যসামগ্রী খালাসে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি হতো। 

doulot_akter@yahoo.com

Share if you like

Filter By Topic