জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভিডিও বার্তায় শুভ কামনা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা।
বুধবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত ১০ দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে রাষ্ট্রনেতাদের ধারণ করা ভিডিও বার্তা দেখানো হয়, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ভিডিও বার্তায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন নিজেকে নবায়িত করার যে স্বপ্ন দেখছে তার সঙ্গে সোনার বাংলার স্বপ্নের মেলবন্ধন গড়তে পারে।
তিনি বলেন, এখন দুদেশই পুনরুজ্জীবন ও উন্নয়নের খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চীনের বৃহৎ জাতীয় নবায়নের স্বপ্ন জোরালোভাবে সোনার বাংলা স্বপ্নের সঙ্গে মেলবন্ধন গড়তে পারে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি গোটা জীবন দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। এখনও বাংলাদেশের মানুষ তাই শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
শেখ মুজিবকে চীনের পুরনো ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে দুবার চীন সফরে তিনি চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইসহ জ্যেষ্ঠ চীনা নেতাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলেন।
গত কয়েক বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতি ও প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে উঠে এসেছে মন্তব্য করেন দ্বিতীয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ৬ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ জনগণের জীবনমান ভালো করার পাশাপাশি বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসাবে চীন বাংলাদেশের অগ্রগতিতে খুব খুশি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে জাপান মডেলে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ।
তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ইতিহাস অনেক পুরনো।৫০ বছর আগে বিশ্বের অল্প যে কটি দেশ প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল জাপান তার অন্যতম।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শৈশবে তার বাবা পিয়েরে ট্রুডোর সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশের সব নাগরিককে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক ও সহযোগিতার গড়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন ট্রুডো।
শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের কারণেই আজকের অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে। ১৯৭৩ সালে বাবা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ছোট আমার বাংলাদেশ সফরে আসার সুযোগ হয়েছিল। আমার বাবা ও শেখ মুজিবুর রহমান তখনই একটি শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
স্বাধীনতার ৫০তম বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের সঙ্গে তার দেশের সহযোগী হওয়ার কথা তুলে ধরে ট্রুডো বলেন, ৫০ বছরে এই দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রসর হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক ব্যাপ্ত হয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। এসব অগ্রগতিতে কানাডা সব সময় বাংলাদেশের সহযোগী ছিল। আমরা বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়, যুব কর্মসংস্থান, সব গুরুত্বপূর্ণ সব উন্নয়নে সহযোগিতা করেছি। আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের জনগণকে নিজের ও কানাডাবাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
আজ হচ্ছে উদযাপনের দিন। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তার লিগ্যাসিকে স্মরণ করছি। আমরা উদযাপন করছি স্বাধীনতার ৫০ বছর। দেশের জনগণের কারণেই শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন আজ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। একসঙ্গে কাজ করে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর একটি পৃথিবী আমরা গড়তে পারি। কানাডার জনগণের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সবার মঙ্গল কামনা করছি।