ফরিদপুরে পদ্মার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার চারটি উপজেলার শতাধিক গ্রামের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, পদ্মায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া জেলার সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার শতাধিক গ্রামে এই পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি সড়ক।
সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর ও চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের ৫০ টি গ্রামের ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানান সুলতান।
ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, তার ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম বন্যা কবলিত। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পানিবন্দি মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হবে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, তার ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের ১৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মৃকর্তা মো. মাসুম রেজা জানান, পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গবাদি পশুর খাদ্য মজুদ আছে। আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যা দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) মোতালেব হোসেন মোল্লা বলেন, তার উপজেলার ঝাইকান্দা, হরিরামপুর, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের সরকারি ভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে।
