র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরীর স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সাইয়াদ সালেহীন কাদরী মারা গেছেন।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
৭৩ বছর বয়সী সালেহীন কাদরী কোভিড-১৯ পরবর্তী জটিলতা নিয়ে গত এক মাস ধরে ঢাকার ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার রাতে পৌনে ৪টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান।
আইসিডিডিআর,বির ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান ফেরদৌসী কাদরীর ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে খ্যাত র্যারমন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণা আসে মঙ্গলবার। সেদিন রাতেই তার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ এল।
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, গত জুলাই মাসে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছিলেন ড. সাইয়াদ সালেহীন কাদরী। কিন্তু পরে আবার নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
“তখন তিনি কোভিড নেগেটিভ ছিলেন, কিন্তু ফুসফুসের অবস্থা খারাপ ছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। ওই অবস্থাতেই তিনি মারা যান।”
ডা. আশীষ জানান, হৃদযন্ত্র এবং কিডনির সমস্যাও ছিল অধ্যাপক সালেহীন কাদরীর। তার সেপটিসেমিয়া হয়ে গিয়েছিল।
বুধবার জোহরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে অধ্যাপক সালেহীন কাদরীর জানাজা হবে। তারপর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাইক্রোবায়োলজির এনজাইমোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সালেহীন কাদরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, “তিনি ছিলেন সদালাপী, সজ্জন ও বিনয়ী চরিত্রের মানুষ। নিবেদিতপ্রাণ এই শিক্ষক ও গবেষক অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
“প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষার বিস্তার ও গবেষণায় অসাধারণ অবদানের জন্য গুণী এই অধ্যাপক স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
