Loading...

পোমোডোরো টেকনিক – কাজে মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল

| Updated: July 05, 2022 12:14:47


ছবি: লকার্ড  ছবি: লকার্ড 

মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত কোনো কাজে একটানা ফোকাস বা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। ফোনের নোটিফিকেশন, কলিং বেল, অপ্রাসঙ্গিক চিন্তাভাবনার উদয় ইত্যাদি কারণে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। একবার চলে গেলে সেই মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। আবার কোনো সময় একটি কাজ শুরুই করা হয়ে ওঠে না। কোনো কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে ও কাজের গতি বৃদ্ধিতে বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হলো পোমোডোরো টেকনিক।   

এই পদ্ধতির মাধ্যমে একটি বড় কাজ কে একটানা না করে ছোট ছোট ধাপে/সময়ে শেষ করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ধাপের মাঝে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিরতি থাকে।  

ফ্রান্সেসকো সিরিল্লো নামের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ১৯৮০ সালে এই পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেন। কোনো একটি বিষয়ে কাজ করার সময় সিরিল্লো লক্ষ্য করেন, তিনি কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারছিলেন না। একটু পর পর তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল।  

এরপর তিনি ঠিক করেন, যেভাবেই হোক একটানা পঁচিশ মিনিট কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। এই পঁচিশ মিনিট সময়ের হিসাব রাখার জন্য তিনি টমেটোর মত দেখতে একটি এলার্ম ঘড়ি ব্যবহার করেন। ইতালিয়ান ভাষায় টমেটোকে বলা হয় পোমোডোরো। সেই থেকে এই পদ্ধতির নাম দেয়া হয় পোমোডোরো টেকনিক।  

ছবি: লিংকডইন 

পোমোডোরো ও পোমোডোরো সেশন  

পোমোডোরো টেকনিক এর প্রতিটি ধাপ কে বলা হয় পোমোডোরো। আর এক একটি পোমোডোরোর আকার হয় পঁচিশ মিনিট। শর্ত হলো, এই পঁচিশ মিনিট একটানা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে হবে। একটি পোমোডোরো শেষ করার পর পাঁচ মিনিট বিরতি নিতে হয়। 

এভাবে চারটি পোমোডোরো মিলে তৈরি হয় একটি পোমোডোরো সেশন। একটি পোমোডোরো সেশন শেষে ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিটের বিরতি নেয়া যাবে। এরপর আবারও পূর্বের নিয়মে পোমোডোরো সেশন চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না কাজ শেষ হচ্ছে৷  

একটি পোমোডোরো সেশন -  

পোমোডোরো ১ (২৫ মিনিট)  

বিরতি (৫ মিনিট)  

পোমোডোরো ২ (২৫ মিনিট) 

বিরতি (৫ মিনিট)  

পোমোডোরো ৩ (২৫ মিনিট)  

বিরতি (৫ মিনিট) 

পোমোডোরো ৪ (২৫ মিনিট)  

বিরতি (৩০/৪০ মিনিট) 

এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এই পুরো সেশন জুড়ে কি কি কাজ করতে হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা ভালো যাতে এই পুরো সময় শুধু কাজের মধ্যে ডুবে থাকা যায়। টু ডু লিস্ট এক্ষেত্রে বেশ কাজে আসে। পোমোডোরো সেশনে কি কি করতে হবে তা আগে থেকে তালিকা করে ফেলা যায়। অর্থাৎ কতটুকু কাজ করতে হবে তার একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলা উচিত।  

এই পঁচিশ মিনিট যেনো কাজের মধ্যে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেলফোন থাকলে তার নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখতে হবে, কাজ করার জন্য উপযুক্ত স্থান বা পরিবেশ ঠিক করে রাখা উচিত, বাসায় আগে থেকেই জানিয়ে দেয়া যাতে কাজ করার সময় কেউ বিরক্ত না করে।  

প্রতি পঁচিশ মিনিট কাজ করার পর পাঁচ মিনিটের বিরতি রয়েছে। এই পাঁচ মিনিট কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় ফোনের নোটিফিকেশনগুলো চেক করা, একটু মেডিটেশন করা বা প্রশান্তি অনুশীলন করা যেতে পারে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক কাজগুলো এই পাঁচ মিনিটেই করে ফেলতে হবে। বিরতি শেষে আবার পূর্বের নিয়মে কাজে ফেরত যেতে হবে।  

পোমোডোরো টেকনিক কেন এত জনপ্রিয়?  

বর্তমানে পোমোডোরো টেকনিক বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। বিশেষ করে হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিখ্যাত লেখক ও ইউটিউবাররা তাদের কাজের গতি ধরে রাখতে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে থাকেন।   

সাধারণত কোনো কাজ করার পাশাপাশি ফেসবুকে স্ক্রল, একটু ইন্সটাগ্রামের নোটিফিকেশন চেক করা হয়। এভাবে দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়াতেই চলে যায়। কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট হয়। গবেষকদের মতে, কোনো কাজ থেকে একবার মনোযোগ সরে গেলে পুনরায় সেই মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে প্রায় এগারো মিনিট সময় লাগে।  

পোমোডোরো টেকনিকের সাহায্যে কোনো কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা যায়। কারণ এখানে কাজের জন্য সময় নির্ধারিত। যেভাবেই হোক পঁচিশ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। অনেকটা পরীক্ষার হলে বসে পরীক্ষা দেয়ার মত। পঁচিশ মিনিট শেষ হয়ে গেলে সাথে সাথে কাজ থামিয়ে দিতে হবে এমনকি ইচ্ছা করলেও তখন আর কাজ করা যাবে না। বাধ্য হয়ে তখন পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে একটানা কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয় যেখানে অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয় খুব একটা মাথায় আসে না।  

পোমোডোরো টেকনিকে সময়ের হিসাব রাখাটা খুবই জরুরী। সিরিল্লো যেমন এলার্ম ঘড়ি নিয়ে সময়ের হিসাব রেখেছিলেন আমাদের তেমনটি করার প্রয়োজন নেই। কাজ শুরু করার পূর্বে পোমোফোকাস নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে শুধু ‘স্টার্ট’ বাটন প্রেস করলেই শুরুর হয়ে যাবে পোমোডোরো টাইমার।  

সাজিদ আল মাহমুদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।   

shajidmahmud11@gmail.com 

Share if you like

Filter By Topic