Loading...

পেশা হিসেবে কেন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং?

| Updated: August 26, 2021 13:27:31


পেশা হিসেবে কেন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং?

তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে জীবনের সর্বক্ষেত্রেই লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সবার হাতে মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ। সাথে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা। এসব কিছুর বদৌলতে বর্তমানে দেশে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তিনির্ভর কিছু প্লাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড দিয়ে আয় করা যায় প্রচুর অর্থ। আর এগুলোই এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটিং নামে পরিচিত। আপলোডের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেগুলো ভাইরাল হয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এভাবেই দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।     

সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিক্ষা, খাবার, স্বাস্থ্য, ফ্যাশন, খেলাধুলা, সমসাময়িক বিষয়াবলি, অথবা হাস্য-রসাত্মক বিষয়গুলো নিয়ে কনটেন্ট। সাধারণত কোনো একটি বিষয় নির্বাচন করে সেটি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয় ভিডিওতে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু এবং মৌখিক অভিব্যক্তি হয় খুবই আকর্ষণীয়, যাতে করে দর্শকরা ভিডিওগুলো পছন্দ করেন। যে যত বেশি মনোরঞ্জন করে ভিডিও বানাতে পারবেন, তার ভিডিও তত বেশি ভিউয়ার পাবে। পাশাপাশি বাড়বে ফলোয়ারের সংখ্যাও। তবে আগে কনটেন্টগুলো শুধু ইউটিউবকে কেন্দ্র করে হলেও, এখন ফেসবুকেও সমানভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে যাচ্ছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

এ বিষয়ে কথা হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোহানা ইসলামের সঙ্গে যিনি বর্তমানে তার নামে একটি ফেসবুক পেইজ পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, “লকডাউনে যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তখনই একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আমার যাত্রা শুরু। আমার বানানো ভিডিওগুলোতে আমি দর্শকদের খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। তাই এই কাজটিকে সামনে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিতে চাই। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় খুললে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভ্রমণ বিষয়ক কনটেন্ট বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্টের মধ্যে বর্তমানে শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্টগুলো উল্লেখযোগ্য। করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা বিষয়ক বিষয়াদি জানতে প্রায়ই ইন্টারনেটের সাহায্য নেয়। এক্ষেত্রে ভিডিওর মাধ্যমে তারা তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেলে তখন সেটি তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। একাডেমিক বিষয়গুলো ছাড়াও স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার, খেলাধুলা, সমসাময়িক বিষয়াবলি এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট এখন প্রায়ই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। আর তাই তো এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও কনটেন্ট বানিয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রদান করার পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজের আয়ের পথও খুঁজে নিচ্ছেন।

এছাড়া বর্তমানে মহামারি পরিস্থিতিতে যেহেতু মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘরে অবস্থান করছে, তাই এই সময়ে অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মগুলো হয়ে উঠেছে তাদের কাছে বিনোদনের খোরাক। সারাদিন ঘরে বসে থেকে যখন মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন বিনোদনধর্মী এসব কনটেন্টগুলো স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ভালোলাগায় পরিণত হয়। অন্তত বন্দী জীবনে কিছুক্ষণ মন খুলে হাসার জন্য হলেও এই কনটেন্টগুলো তখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। আর তাইতো বর্তমানে গড়ে উঠেছে এই ধরনের বেশ কিছু  মজাদার অনলাইন প্লাটফর্ম, যেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড করে দর্শকদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি রান্না বা রূপচর্চা বিষয়ক কনটেন্টগুলোও এখন বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটিংয়ের কথা বললে ভ্রমণ বিষয়ক ভিডিওগুলোর কথা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যায় না। প্রকৃতির রূপসী কন্যা বাংলাদেশের প্রত্যেক বাঁকে বাঁকেই রয়েছে স্বর্গীয় সৌন্দর্যের সমাহার। একটু সময় পেলেই পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে মানুষ ছুটে যায় সেসব জায়গাগুলোতে। যেকোনো জায়গায় যাওয়ার আগেই পর্যটকরা সে জায়গাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে চায়। এক্ষেত্রে তারা প্রথমেই যে জিনিসটি খোঁজে, সেটি হলো ঐ জায়গা সম্পর্কিত কোনো ভিডিও ইন্টারনেটে আছে কি না। তাই ভ্রমণ ভিডিওগুলোও বর্তমানে কনটেন্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আয় করেন যেভাবে

একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার ভিডিওগুলো ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেইজে আপলোড দিয়ে থাকেন। ইউটিউবের ক্ষেত্রে প্রথমে তাকে মনিটাইজেশন করতে হয়। তবে এই মনিটাইজেশন চাইলেই পাওয়া যায় না। এজন্য তাকে অংশ নিতে হয় ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ভিত্তিতে মনিটাইজেশন পাওয়া যায়। এরপর থেকে ইউটিউব বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইউটিউব ভিডিওতে দেখাবে এবং কতজন দর্শক সেগুলো দেখছে তার উপর ভিত্তি করে টাকা পাবেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

ফেসবুকের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্তপূরণ এবং এরপর ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার প্রদানের পর মনিটাইজেশন পাওয়া যায় এবং এরপর থেকে পেইজের ভিডিওগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। আর সেসব বিজ্ঞাপনের ভিউয়ারের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে অর্জিত হয় অর্থ।

কনটেন্ট ভিউয়ারদের মধ্য থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ থেকে সদ্য এমবিএ শেষ করা শিক্ষার্থী হুমায়রা আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ভিডিও কন্টেন্টের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কারণ শিক্ষামূলক কনটেন্টগুলো থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। পাশাপাশি ব্যস্ত জীবনে একটু বিনোদনের জন্য কিছু কনটেন্ট আসলেই খুব প্রয়োজনীয়। তবে পাশাপাশি ভুল তথ্য দিয়ে তৈরি করা কিছু কনটেন্টও এখন পাওয়া যায়, যা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বর্জন করা উচিত।”

মূলত কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য নিয়ে এগুলে যেকোনো পেশাতেই সাফল্য অর্জন সম্ভব। আর বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে যেহেতু মানুষ প্রযুক্তির সাথে অনেক বেশি পরিচিত হচ্ছে, তাই কনটেন্ট ক্রিয়েটিংও পেশা হিসেবে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। খুব বেশি টাকা খরচ করতে না হলেও ভালো মানের কনটেন্ট বানিয়ে আয় করা যায় প্রচুর অর্থ। তাই আশা করা যায়, আগামীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং আরো অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পাবে এবং অনেকের জন্য এটি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে।

তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

tanjimhasan001@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic