Loading...

পেঁপে ছাড়া ৫০ টাকার নিচে সবজি নেই

| Updated: November 20, 2021 13:44:56


পেঁপে ছাড়া ৫০ টাকার নিচে সবজি নেই

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতের সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম বেশি; বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা সবজির দর একটু বেশিই চড়া।

শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও পেঁপে ছাড়া কোনো সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে নেই। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ভারতীয় নতুন আলু খুচরায় কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করা টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং চীনের গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একশ টাকার ওপর দেশি সবজির মধ্যে কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গোল বেগুনি রঙয়ের বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

আগামী সপ্তাহের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শীতকালীন সবজি প্রচুর পরিমাণে আসা শুরু হবে বলে আশা সবজি ব্যবসায়ীদের। তখন বাজার শীতকালীন সবজিতে ভরপুর হলে দামও অনেক কমে আসবে, বলছেন তারা।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মিরাজ বলেন, “অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এক সপ্তাহ পর থেকে শীতকালীন সবজিতে ঢাকাসহ সারাদেশের বাজার ভরপুর হয়ে যাবে। তখন দাম অর্ধেকে নেমে আসবে। কোনো কোনো সবজির দাম এসময় কয়েকগুণও কমে যায়।“

নতুন আলু গত দুই/তিন দিন ধরে বাজারে উঠেছে। আর গত এক সপ্তাহ ধরে টমেটো, গাজর ও কাঁচামরিচের দামে কোনো পরিবর্তন নেই বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

মিরাজ জানান, নতুন আলু ও টমেটো ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে; আর বাজারে যেসব গাজর পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো চীন থেকে আসছে। যে কারণে এগুলোর দাম বেশি। বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে করলার কেজি ৮০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ছোট আকারের প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি আকারের লাউ ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

তবে সপ্তাহ খানেক আগে ১০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হওয়া শিমের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিকেজি শীতকালীন এ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, শিমের দাম কমলেও অন্যান্য সবজির দাম অপরিবর্তিত আছে। তবে গত সপ্তাহের আগে যে ফুল ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন একই দামে সেগুলোর চেয়ে আকারে কিছুটা বড় পাওয়া যাচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, “দুই-তিন ধরনের সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম এখনও চড়া। যেসব সবজি আসছে বেশি, সেগুলোর দাম পাইকারি বাজারে কমেছে, আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারতেছি। আশা করছি আগামী ১০ দিন বা এক সপ্তাহর মধ্যে শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরে যাবে, তখন দামও কমবে।”

মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, “বর্ষাকাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সবজির দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। দাম এত বেশি যে প্রয়োজন থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি কেনা সম্ভব হয় না। সবজি কিনতে গেলে আগে দাম জিগাইয়া, পরিমাণ বলে কিনতে হয়।”

কিছুদিনের মধ্যে শীতের সবজিতে বাজার ছেয়ে গেলে দামও সামর্থের মধ্যে থাকবে; তখন ‘ব্যাগ ভরে’ বাজার-সদায় করতে পারবেন বলে প্রত্যাশার কথা বলেন তিনি।

শীতকালীন সবজির দাম বেশি হলেও বাজারে মুরগির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক মাস আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

এছাড়া দুই সপ্তাহ আগে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সোনালী মুরগির দাম কমে এখন ২৯০ টাকা হয়েছে। তবে লেয়ার মুরগি আগের মতোই ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

শান্তিনগর বাজারের ভাই ভাই ব্রয়লার হাউজের মুরগি বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, “গত দুই সপ্তাহ ধরে মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। সোনালীর দামও কমেছে। কিন্তু লেয়ার মুরগির সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি।”

খামারে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নতুন সবজি উঠতে থাকায় মুরগির দাম কমছে বলে ধারণা তার।

Share if you like

Filter By Topic