কাগজে কলমে স্বীকৃতি না থাকলেও এই ধরাধামে এমন অনেক কিছুই আছে যা নানা কারণে সেগুলোর অস্তিত্ব স্বীকার করতে বাধ্য করে। এ ব্যপারে আলোচিত এক বিষয় হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ সিল্যান্ড।
পাঠকদের মনে হয়তো ইতোমধ্যে ভ্যাটিকান সিটি এবং সিল্যান্ডকে নিয়ে ছোটখাটো একটি দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে প্রিন্সিপ্যালিটি অব সিল্যান্ডকে আজ অবধি বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র স্বীকৃতি প্রদান না করলেও বিরোধিতা বা দ্বিমত পোষণ করেননি কেউই।
ইংল্যান্ডের সাফোক হতে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে উত্তর সাগরের দেশ প্রিন্সিপ্যালিটি অব সিল্যান্ড অবস্থিত। এই ভূখন্ডের বর্তমান কর্নধার হলেন যুবরাজ মাইকেল বেটস। ১৯৬৬ সালে প্যাডি রয় বেটস নামক একজন সাবেক বৃটিশ আর্মি মেজর এই স্থানের সন্ধান পান এবং নিজে জায়গাটির দখল নিয়ে নেন।
পরবর্তীতে তিনি স্থানটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় এই ভূখন্ডের অধিবাসী ছিলেন কেবলমাত্র তিনজন। প্যাডি রয় বেটস, তাঁর স্ত্রী এবং তাদের ছেলে মাইকেল বেটস।
মূলত একসময় এটি একটি দুর্গ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মানদের আকস্মিক হামলা থেকে উপত্যকা এলাকাকে রক্ষা করার জন্য বৃটিশ সরকার উত্তর সাগরে বেশ কিছু দূর্গ দ্বীপ নির্মাণ করছিলেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধভাবে কিছু দূর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কংক্রিট ও ইস্পাতের তৈরি দূর্গ যা রাফস টাওয়ার (বর্তমানের সিল্যান্ড) হিসেবে পরিচিত ছিল সেইসময় এটি ছিল অন্যতম।
ছবি: ডেইলি মেইল
আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধভাবে নির্মাণের কারণে ১৯৫০-এর দশকে এটি পরিত্যাক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হলেও অজ্ঞাত কোনো কারণে পরবর্তীতে সেটি আর ধ্বংস করা হয়নি।
১৯৬৬ সালে প্যাডি রয় বেটস তার বন্ধপ্রায় রেডিও স্টেশন পুনঃস্থাপনের জন্য পরিত্যাক্ত রাফস টাওয়ারের দখল নেন। পরবর্তীতে তার আইনজীবীর সাথে আলোচনা করে রাফস টাওয়ারকে একটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন।
পরের বছর ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সালে তার স্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পরিবার-পরিজন এবং নিকটস্থ বন্ধুবান্ধব ও অনুসারীদের উপস্থিতিতে নতুন নকশাকৃত পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সিল্যান্ডের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন।
এক নজরে সিল্যান্ড-
আয়তন: ০.০০১৫ স্কয়ার মেইল
মুদ্রা: সিল্যান্ড ডলার
পতাকা: লাল, সাদা ও কালো রং বিশিষ্ট
জাতীয় সংগীত: এ মারে লিবার্টাস
সর্বোচ্চ পদমর্যাদাঃ একটি ফার কোট যা নাবিকদের জীবনকে নির্দেশ করে এবং একটি অতুলনীয় মুকুট এবং শিরস্ত্রাণ যা পদমর্যাদা প্রকাশ করে।
প্রতিরক্ষা: ভূখন্ডের সুরক্ষার্থে সারাবছর দুজন রক্ষী পাহারা দিয়ে থাকে।
সিল্যান্ডের একটি অনলাইন স্টোর রয়েছে যাতে তারা টি-শার্ট, স্ট্যাম্প এবং রয়্যাল টাইটেল বিক্রয় করে।
দেশটির সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে যুবরাজ মাইকেল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলেন, আমরা এমন সমাজে বাস করি না যেখানে সমাজের কিছু নির্দিষ্ট লোক অন্যরা কি করবে আর কি করবে না তা নির্ধারণ করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে সকলকে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার প্রদান করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর নিয়মও এমনই হওয়া উচিৎ।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com