ব্যবহারের পর অনেকেই ব্যবহার্য কাগজ ফেলে দেন যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম একটি কারণ। অথচ ব্যবহৃত এই কাগজ দিয়ে বানানো যায় বিভিন্ন নান্দনিক জিনিস। তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে সহজেই বানানো যায় কাগজের বিভিন্ন শিল্পকর্ম।
মন্ড তৈরি
প্রথমেই আসা যাক কাগজের মন্ড তৈরির প্রসঙ্গে। এর জন্য প্রথমে কাগজকে ছিঁড়ে ছোট ছোট টুকরো করে কয়েকদিন পানিতে ভিজিয়ে নরম করতে হবে। অতঃপর সেগুলোকে পানি থেকে তুলে পাটায় পিষে নিতে হবে। চাইলে এক্ষেত্রে হালকা আঠা মিশিয়ে বেটে নেওয়া যায়। বাটা হয়ে গেলে সেগুলো দিয়ে পছন্দের আকৃতি তৈরি করে নিতে হবে।
তবে অনেকসময় পুরো আকৃতি একদিনে তৈরি করা যায় না। কাগজগুলো নরম থাকাতে সেক্ষেত্রে নিচ থেকে আকৃতিটি ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই প্রথমদিন কিছুটা বানিয়ে সেটিকে রৌদে শুকিয়ে শক্ত করে নিতে হবে। অতঃপর সেটির উপর আবার নরম কাগপজের প্রলেপ দিয়ে বাকী অংশ বানানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
পুরো আকৃতিটি বানানো হয়ে গেলে সেটিকে রোদে কিছুদিন শুকিয়ে শক্ত করে নিতে হবে। তারপর সেখানে বিভিন্ন রঙ কিংবা নকশার ব্যবহার করে বস্তুটিকে করে তোলা যায় আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয়।
ছাঁচের আকৃতি তৈরি
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ছাঁচ পাওয়া যায়। সেসব ছাঁচের ভিতরে নরম কাগজের প্রলেপ ঢুকিয়ে এবং বাইরে সে প্রলেপের হালকা আস্তরণ দিয়েও তৈরি করা যায় বিভিন্ন শৌখিন দ্রব্যাদি। আর ছাঁচের পরিবর্তে বাঁশ কিংবা কাঠের তৈরি কাঠামোও এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কাগজের গয়না
এ কাজে নতুন কাগজ যেমন ব্যবহার করা যায়, ঠিক একইভাবে ব্যবহার করতে পারেন পুরোনো কাগজও। এর জন্য প্রথমে কাগজগুলোর উপর হালকা রঙয়ের আস্তরণ দিতে হবে। সেটি শুকিয়ে গেলে লম্বাটে করে কাগজগুলো কেটে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে এক রঙের কাগজ ব্যবহার না করে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করলে গয়নাগুলো বেশ ফুটে উঠবে।
কাগজগুলোকে লম্বাটে অবস্থায় আলাদা আলাদাভাবে ভাঁজ করে নিতে হবে। এরপর ভাজ করা কাগজগুলো একটির সাথে আরেকটি পেঁচিয়ে তৈরি করা যায় বাহারি সব গয়না।
এ পদ্ধতিতে কানের দুল, নাকফুল, গলার হার, হাতের বালাসহ বিভিন্ন গয়না প্রস্তুত করা যায়। কেউ চাইলে এখানে পুঁতি কিংবা শামুকের আস্তরণ যোগ করতে পারেন।
কাগজের ফুলদানি
প্রথমেই কাগজের ছোট ছোট টুকরো তৈরি করে নিতে হবে। এরপর বেলুন ফুলিয়ে বেলুনের গায়ে কাগজের টুকরোগুলো আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে দিতে হবে। আঠা শুকিয়ে গেলে বেলুনের মুখ কাঁচি দিয়ে কেটে বেলুনটি বের করে নিয়ে আসতে হবে। তখন দেখা যাবে কাগজগুলো শক্ত হয়ে ফুলদানির মতো আকৃতি হয়ে গেছে। এরপর সেখানে বিভিন্ন ধরণের রঙ এবং আলপনা একে তৈরি করা যাবে আকর্ষণীয় ফুলদানি।
বাতি তৈরি
এ কাজটি করার জন্য প্রথমে কাগজকে ছোট ছোট টুকরো করে রাখতে হবে এবং কাগজের উপর হালকা করে রঙ করে নিতে হবে। অন্যথায় কাগজে থাকা লেখাগুলোর জন্য বাতির সৌন্দর্য ফুটে উঠবে না।
এরপর একটি বেলুনকে মাঝামাঝি ফুলিয়ে আগে থেকে টুকরো করা কাগজগুলো আঠা দিয়ে বেলুনের গায়ে লাগিয়ে দিতে হবে। কাগজ শুকিয়ে গেলে আগের মতো বেলুনের মুখ কেটে বেলুনটি বের করে নিয়ে আসতে হবে।
অতঃপর এর ভেতর বৈদ্যুতিক বাতি প্রবেশ করিয়ে বিদ্যুত সংযোগ দিলেই বাতিটি জ্বলবে। কাগজের রঙ যেমন হবে বাতির আলোও ঠিক তেমন দেখাবে।
কাগজ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম সম্পর্কে আরো জানতে কথা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক সৌরভ জাহানের সঙ্গে ব্যবহারের পর কাগজ দিয়ে বিভিন্ন শৈল্পিক দ্রব্য বানানো গেলে সেটি পরিবেশ দূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে এ ধরনের পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কারণ এসব দ্রব্যের মধ্যে এক ধরণের নিজস্ব সংস্কৃতির ছাপ ফুটে ওঠে। অন্যদিকে বর্তমানে যেহেতু তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে তাই এর সুবাদেও এসব দ্রব্যের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া সম্ভব।
এটি পরিবারের জন্য একটি বাড়তি বাড়তি আয়ের সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে পরিবারের বেকার সদস্যরা কিংবা গৃহিণীরা এ সুযোগটিকে কাজে লাগাতে পারেন।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
tanjimhasan001@gmail.com