রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুতর অসুস্থতা, এমনকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার যত খবরই পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে আসুক, সেসব উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এ সংস্থার পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেছেন, পুতিনের শারীরিক অবস্থা অস্থিতিশীল বা তার শরীর ভালো নেই- এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে নেই।
উল্টো রসিকতা করে তিনি বলেছেন, “তাকে (পুতিন) খুব স্বাস্থ্যবানই মনে হচ্ছে।”
বিবিসি লিখেছে, বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তির নেতৃত্বে থাকা পুতিন এ বছর ৭০-এ পা দিয়েছেন। বয়স বাড়ার পাশাপাশি তার অসুস্থতার খবরও বাড়ছে। তবে সেসব খবর বেশিরভাগ সময় হয় অনুমান নির্ভর এবং অনিশ্চিত।
করোনাভাইরাস মহামারীর দুই বছরে জনসমাগম কমিয়ে দিয়েছিলেন পুতিন, এমনকি সরকারি বৈঠকগুলোতেও খুব একটা দেখা যায়নি তাকে। জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের দীর্ঘ টেবিলের অপর প্রান্তে রেখে তিনি আলাপ সেরেছেন।
তখনই পুতিনের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে। তবে বরাবরই তা নাকচ করে আসছে ক্রেমলিন।
এ বছর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে রাশিয়া। যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বোঝা চাপিয়ে ইউক্রেইনকে অস্ত্র সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
সিআইএ প্রধান এমন সময়ে পুতিনের অসুস্থতার গুজব উড়িয়ে দিলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনকে আরও অস্ত্র, সমর সরঞ্জাম সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নজর এখন আর ‘কেবল’ পূর্ব দিকে নয়। পশ্চিমারা ওই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করায় মস্কোর কৌশলও বদলে গেছে।
‘নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী’
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর আসপেন সিকিউরিটি ফোরামে সিআইএ প্রধান বার্নস বলেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচুর গুজব আছে। তবে আমরা যতদূর বলতে পারি, তিনি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি হেসে বলেন, পুতিনের অুস্থতার খবর গোয়েন্দা সংস্থার আনু্ষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা ছিল না।
এক সময় মস্কোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করা বার্নস দুই দশকের বেশি সময় ধরে রুশ নেতাকে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।
তিনি বার্নস বলেন, “পুতিন নিয়ন্ত্রণ, ভয় দেখানো এবং শাস্তিদানে বড় বিশ্বাসী। তার এই বৈশিষ্ট্যগুলো গত দশকে আরও কঠোর হয়েছে, যেহেতু তার সার্কেলের অনেক উপদেষ্টাদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।
“পুতিন বিশ্বাস করেন, রুশ নেতা হিসাবে তার লক্ষ্য রাশিয়াকে সর্বশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা। সেজন্য মূল যে জিনিসটা দরকার তা হল, রাশিয়ার আশেপাশে প্রভাবের বলয় তৈরি করা, ইউক্রেইনকে নিয়ন্ত্রণ না করে তিনি সেই কাজটি করতে পারবেন না।”
