Loading...

পিএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসে ১০ বছরের সাজার আইন হচ্ছে

| Updated: October 19, 2021 19:02:28


পিএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসে ১০ বছরের সাজার আইন হচ্ছে

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রেখে একটি আইন করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এতদিন ১৯৭৭ সালের অধ্যাদেশে সরকারি কর্ম কমিশন চলত। হাই কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন আইন করা হচ্ছে।

“এটা রুল বেইজড আইন। ম্যাক্সিমাম জিনিসগুলো রুল দিয়ে করে নেওয়া হবে। জেনারেল একটা প্রভিশন লে-ডাউন করে দেওয়া হয়েছে আইনটাতে। খসড়া আইনে ১৫টি ধারা আছে। যেহেতু রুল বেইজড আইন, সব প্রসিডিউরগুলো পরবর্তীতে রুলের মাধ্যমে করে দেওয়া হবে।“

খসড়ায় কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে এবং সে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “কমিশনে কমপক্ষে ৬ জন সদস্য থাকবেন, তবে সদস্য কোনোভাবেই ১৫ জনের বেশি হবে না। একটা আউট লাইন করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ফরমেশনটা রুল দিয়ে করে দেওয়া হবে।

“তাদের দায়িত্ব হল সংবিধানের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন রিক্রুটমেন্টের বিষয়ে তারা দায়িত্ব পালন করবে। কমিশনকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তা দিতে হবে, এমন একটা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।”


পিএসসির পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়েও খসড়ায় একটি রূপরেখা করে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে পরে বিধি ও ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, খসড়া আইনে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু অপরাধের কথা বলা হয়েছে। কেউ যদি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে তাহলে সর্বোচ্চ ২ বছর, সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেওয়া যাবে। পরীক্ষায় অসুদাপয় অবলম্বনে সহযোগিতা করেলেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

“প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। বেশ শক্ত একটা স্ট্যান্ড নেওয়া হয়েছে। জরিমানাটা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। উত্তরপত্রের জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন, তাদের সর্বোচ্চ ২ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে ।”

পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কেউ এ আইনে অপরাধ করলে ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমেও এ সাজা দেওয়া যাবে।

কিছুদিন ধরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রিসাইজ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন ফোরামে, সর্বোচ্চ ফোরামে এই জাতীয় আলোচনা হয়েছে- আলাদা একটা পিএসসি গঠন করে করা যায়। তবে প্রিসাইজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”

Share if you like

Filter By Topic