রাজধানী ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চলমান ‘সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩)’ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক।
একইসঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও পাঁচ বছর। ২০১৫ সালের জুলাইতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বা প্রায় ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকায় সংশোধন করা হয়েছে।
এর আগে প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ঢাকা ওয়াসা।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থেনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর বৈঠকে প্রকল্পটির সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, “প্রকল্পটির মাধ্যমে মেঘনা নদী থেকে পানি পরিশোধন করে ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু মেঘনা নদীর তীরে চলমান শিল্প কার্যক্রম ও নদীর পানি দুষণের কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন অংগের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।“
এ প্রকল্পে দাতা সংস্থা ডানিডা, এএফডি, কেএফডব্লিউ ও ইআইবি সম্মিলিতভাবে ৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার অর্থায়ন যোগান দিচ্ছে। এ সংশোধনের কারণে প্রায় ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা দেবে সংস্থাগুলো বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের নির্ভরতা কমাতে ৪৫০ এমএলডি ক্ষমতার সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
“এটির মাধ্যমে রাজধানীতে পানি সরবরাহে সায়েদাবাদে বিদ্যমান প্লান্ট-১, ২ ও প্রস্তাবিত ৩ প্লান্টের স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে সায়েদাবাদ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পরিশোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে।“
এম এ মান্নান জানান, বৈঠকে এটিসহ প্রায় ৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা ব্যয়ের নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা, সংস্থার অর্থায়ন ২৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা যোগান দেওয়া হবে।
