পরীক্ষামূলক যাত্রায় উত্তরার দিয়াবাড়ি ডিপো থেকে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথমবারের মত আগারগাঁও পর্যন্ত এল যাত্রীবিহীন মেট্রোরেল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
সব ঠিক থাকলে আর এক বছর পরই এই পথে যাত্রী নিয়ে মেট্রোরেল ছুটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে পুরোদমে।
ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল লাইনের জন্য ২৪ সেট বৈদ্যুতিক ট্রেন তৈরি করে দিচ্ছে জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো জাপানেই তৈরি হচ্ছে।
জাপান থেকে আসা দ্বিতীয় ট্রেন সেটটি রোববার বেলা ১১টায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও এসে পৌঁছায় বলে জানান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক। প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন আহমদও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, “আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁ পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে।”
তিনি জানান, রোববারের ট্রেনটি দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর ১০ পর্যন্ত এসেছে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে। এরপর মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এসেছে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার বেগে। নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে এসব ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
মিরপুরের পরে গতি কমিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করে এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, “ঠিক ১১টায় পৌঁছানোর জন্যই এ গতিবেগ ছিল। একদম সুনির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন এসে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, “মেট্রো ট্রেন রিয়েল টাইমে চলাচল করবে। যে স্টেশনে যে সময় লেখা থাকবে ঠিক সেই সময়ে ট্রেন এসে পৌঁছাবে। সেভাবেই আমরা পারফরমেন্স টেস্ট পরিচালনা করছি।”
উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটারের এমআরটি-৬ লাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। ডিএমটিসিএল এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের সমন্বিত অগ্রগতি হয়েছে ৭২ শতাংশ।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু মহামারীর প্রভাবে সেই গতি ধরে রাখা যায়নি।
গত ২৯ অগাস্ট প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের ওপর পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হয়। সেদিন ৬টি বগি নিয়ে দিয়াবাড়ি ডিপো থেকে মিরপুর ১২ নম্বর স্টেশন পর্যন্ত গিয়ে আবর ডিপোতে ফিরে আসে বৈদ্যুতিক এই ট্রেন। এরপর থেকে নিয়মিতই পরীক্ষামূলক যাত্রা চলছে। তবে এসব যাত্রা ছিল দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর ১০ নম্বর স্টেশন পর্যন্ত।
ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, “উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত নয়টি স্টেশনের ছয়টির রুফশিটসহ সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি তিনটি স্টেশনের রুফ শিটের কাজও শেষ হয়ে যাবে।”
এখন আগারগাঁও পর্যন্ত স্টেশনগুলোর বৈদুতিক সংযোগ, প্লাম্বিং ও আনুষঙ্গিক কাজগুলো করা হচ্ছে। ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট নির্মাণ শেষ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ পর্যন্ত মেট্রোরেলের সাত সেট ট্রেন ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। সোমবার আরেকটি ট্রেন সেট ডিপোতে এসে পৌঁছাবে। জানুয়ারি মাসে আরও দুই সেট ট্রেন বহরে যুক্ত হবে।
এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, “জাপান থেকে আমাদের ডিপোতে যে সেট এসে পৌঁছায়, প্রথমে এর ফাংশনাল টেস্ট হয়। এরপর পারফরমেন্স টেস্ট শুরু করা হয়। এরপর হয় ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট। সবশেষে যাত্রীবিহীন ট্রায়াল রান করা হয়। আমরা আশা করছি, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে যাত্রীবিহীন ট্রায়াল রান শেষ করতে পারব।
“বাকি তিন মাসের মধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করব, যাতে আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু করা যায়।”
