আমাদের চারপাশের পরিবেশে সব আছে, নেই পরিচ্ছনতা। তবে একটু সচেতন হলেই মানুষ এসব দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা রোধ করে একটি সুস্থ ও সুন্দরপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। শুরুটা হোক নিজের হাতেই।
চলুন এ লেখায় জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ব্যক্তিগত সচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করা যায় সে সম্পর্কে।
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনানা ফেলা
বর্তমানে পরিবেশ দূষণের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা। অথচতা না করে একটি নির্দিষ্ট স্থানেআবর্জনা ফেললে পরিবেশকে অনেকটাই দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব। বর্তমানে শহরাঞ্চলে পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বাসা-বাড়ির ময়লা সংগ্রহ করা হয়।
এছাড়া গ্রামীণ পরিবেশেও কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে সেখানে ময়লা ফেললে সেখানকার পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখা সম্ভব। আর রাস্তাঘাটে বোতল, প্লাস্টিক ইত্যাদি দ্রব্যাদি যত্রতত্র না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে, প্রয়োজনে প্যাকেটটি সাথে রাখতে হবে যতক্ষণ না ফেলার মতো জায়গা পাওয়া যায়।
পানি দূষণ রোধ
ময়লা আবর্জনা, বসত বাড়ির উচ্ছিষ্টইত্যাদি পানিতে না ফেলার মাধ্যমে আমরা সহজেই পানি দূষণ রোধ করতে পারি।বাড়ির পাশের পুকুর বা নদীকে প্রকৃতিপ্রদত্ত ডাস্টবিন ভাবা চলবে না। এছাড়া শিল্প কারখানার বর্জ্য সরাসরি পানিতে না ফেলে বিকল্প পথে নিষ্কাশন করতে হবে।
কীটনাশকের ব্যবহার রোধ
অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে তা বিভিন্ন উপকারী পতঙ্গ মেরে ফেলার পাশাপাশি মানবদেহের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখা যায়।
উচ্চশব্দ প্রতিরোধ
অতি উচ্চ স্বরে মাইক্রোফোন ব্যবহার, স্পিকারে গান বাজানো, অযথা গাড়ির হর্ন বাজানো ইত্যাদির ফলে শব্দ দূষণ ঘটে। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা হাসপাতালের আশেপাশে অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে এটি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা সহ রোগীদের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে শব্দ দূষণের ফলে বাসা বাড়িতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দৈনন্দিন জীবনে অবশ্যই আমাদের উচ্চ শব্দে মাইক্রোফোন কিংবা স্পিকার বাজানো বন্ধ করার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে অযথা গাড়ির হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে।
বায়ু দূষণ রোধঃ
বায়ু দূষণ রোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল ইট ভাটার কালো ধোঁয়া ও শিল্প কারখানার ক্ষতিকারক ধোঁয়া বিশুদ্ধকরণের পর বায়ুতে নির্গত করার ব্যবস্থা করা। এছাড়া গাড়ির কালো ধোঁয়া যাতে বের না হয় সে ব্যবস্থাও করতে হবে।
এইতো গেল কীভাবে ব্যক্তিগত সচেতনতার মাধ্যমে আমরা পরিবেশ দূষণ রোধ করতে পারি সে সম্পর্কে। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যর্থ হলে আমাদের কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সেগুলো সম্পর্কে।
১. বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিবেশ দূষণের ফলে শিশুদের বুদ্ধিবিকাশ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি এর ফলে শিশুদের স্নায়ুজনিত ক্ষতি হয়।
২. পরিবেশ দূষণের ফলে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত, মৃত শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা এমনকি গর্ভাবস্থায় বাচ্চার শারীরিক সমস্যাও হতে পারে।
৩. দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের মধ্যে থাকলে এর ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগের সম্ভাবনাসহ আরো নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. যুক্তরাজ্যের ওয়াটার পলিউশন গাইডের মতে, দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে চর্মরোগ, টাইফয়েড, জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের মত রোগ হতে পারে।
৫. এছাড়া দূষিত পানির মাছ কিংবা দূষিত মাটিতে উৎপন্ন শাকসবজি কিংবা ফলমূল খাওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকারক দ্রব্যাদি ঢুকে পড়ে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি করে।
৬. যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আসোসিয়েশন অব নয়েজ কন্ট্রোল এর মতে, রাস্তাঘাটে অতিরিক্ত শব্দের ফলে একজন মানুষের হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যাথা, কিংবা স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শব্দ দূষণের ফলে ব্লাড প্রেশার, শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা, হজমের সমস্যা, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটিও দেখা দিতে পারে।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
tanjimhasan001@gmail.com
