পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনই শরীয়তপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনা করেছেন শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীরা।
লক্ষ্য সামনে রেখে এসি ও নন-এসি বাসে প্রায় তিনশ কোটি বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলেও তারা জানান।
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আজাদ বলেন, ঢাকার কাছের জেলা শরীয়তপুর। কিন্তু পদ্মা পারের ঝক্কি এড়াতে দুই জেলায় সরাসরি বাস বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই দশক। যাত্রীরা প্রধানত নৌপথে যাতায়াত করেন।
পদ্মা ট্রাভেলস নামে তার ১২টি বাস এখন ঢাকা-শিমুলিয়া পথে পরীক্ষামূলক চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্ম সেতু উদ্বোধনের দিনই তিনি তার বাস সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে চান।
আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের দিনই ঢাকা-শরীয়তপুর পথে বাস নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু বেপারী বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ায় পরিবহন ব্যবসায়ীরা শরীয়তপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে চালানোর জন্য প্রায় তিনশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।”
“শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস, শরীয়তপুর ট্রান্সপোট, পদ্মা ট্রাভেলস, গ্লোরি এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসি ও 'নন-এনি বাস কেনা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ভলভো, আইজার, অশোক লিলেন্ড, টাটা থেকে তারা এসব গাড়ি কিনছেন। শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডসহ ঢাকার সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে চলছে নতুন এসব বাসের বডি প্রস্তুতের কাজ।”
“শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস প্রাইভেট কোম্পানি’নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে বলে জানান পরিবহন মালিক নেতা ফারুক আহম্মেদ।
ফারুক বলেন, এই কোম্পানি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি চালাতে এসি ও নন-এসি মিলিয়ে ৫০টি বাস তৈরি করছে। শরীয়তপুরের পরিবহন কোম্পানিগুলো প্রাথমিকভাবে প্রায় তিনশ বাস তৈরি করছে, যার প্রতিতে খরচ পড়ছে ৭০ লাখ থেকে কোটি টাকা।
“জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, মিরপুর, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও নারায়ণগঞ্জে, গাজীপুরে চলবে এই বাস।”
পরিবহন সেবার এসব খবর ছড়িয়ে পড়েছে শরীয়তপুরের আনাচে-কানাচে। বিশেষ আনন্দিত ব্যবসায়ীরা।
জেলা শহরের একজন তেল ব্যবসায়ী আলী আহমেদ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তেল পরিবেশক তিনি।
আলী আহমেদ বলেন, সপ্তাহে অন্তত চারবার তাকে পথের দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়।
“এখন একই সঙ্গে সেতু এবং সরাসরি ভাল বাস চালু হলে দুই ঘণ্টায় নিরাপদে যেতে পারব সেই আশায় আছি।”
সেতু চালু হলে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস চালু হবে বলে জানান শরীয়তপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল।
