Loading...

নোবেল শান্তি পুরস্কার: এ বছর কি গ্রেটা থুনবার্গ?

| Updated: October 02, 2021 17:54:45


নোবেল শান্তি পুরস্কার: এ বছর কি গ্রেটা থুনবার্গ?

বিশ্বের সবচেয়ে রাজনৈতিক মর্যাদাসম্পন্ন এই পুরস্কার কে পাচ্ছেন? তা জানা যাবে আগামী ৮ অক্টোবর। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে এ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন কেউ।

বিষয়টি যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তারা বলছেন, এটা অনুমান করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে- বৈশ্বিক সেইসব ইস্যুর দিকে নজর রাখা, যা নোবেল কমিটির ৫ সদস্যের মনে রেখাপাত করতে পারে।  

আগামী নভেম্বরে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই সম্মেলনকে আগামী দশকে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমণের একটি সীমা বেঁধে দেওয়ার শেষ সুযোগ হিসাবে দেখছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখা যায় তবেই কেবল তারা বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর আশা দেখছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গের জন্য এটাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৮ বছর বয়সে নোবেল জিতে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইয়ের পর তিনিই হতে পারেন এ পুরস্কার পাওয়া দ্বিতীয় কমবয়সী ব্যক্তি।

‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ এর পরিচালক ড্যান স্মিথ বলেন, “নোবেল কমিটি বেশির ভাগ সময়ই একটি বার্তা দিতে চায়। এর মাধ্যমে কপ ২৬ সম্মেলনকে খুব জোরালো বার্তা দেওয়া হবে, যেটা এই পুরস্কার ঘোষণা এবং অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঘটবে।”

এছাড়া বড় আরেকটি বিষয়কে সামনে আনতে পারে কমিটি, সেটা হলো গণতন্ত্র এবং বাক স্বাধীনতা। যে কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট’ কিংবা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ এর মতো কোনো সংগঠনকে পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে এ তালিকায় থাকবেন বেলারুসের নির্বাসিত বিরোধী নেতা স্ভিয়াৎলানা তিকানোস্কায়া কিংবা রাশিয়ার কারাবন্দি বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনি।

পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলোর পরিচালক হেনরিক উরদাল বলেন, “সাংবাদিকদের জন্য কাজ করা কোনো সংগঠন যদি পুরস্কার জেতে তবে “গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দীর্ঘ বিতর্ককে অনুরণিত করবে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাভালনি কিংবা টিকানোস্কায়ার পুরস্কার পাওয়া হবে শীতল যুদ্ধের প্রতিধ্বনির মতোই, সেসময় শান্তি এবং সাহিত্যে পুরস্কার পান ভিন্নমতাবলম্বী আন্দ্রেই শাখারভ এবং আলেক্সান্ডার সোলঝেনিৎসিন।

ভবিষ্যৎবাণীতে কোভিড- ১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নেওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বল্পোন্নত ও দরিদ্র্য দেশগুলোর জন্য টিকা সরবরাহের প্ল্যাটফর্ম- কোভ্যাক্স এর নামও এসেছে।

তবে পর্যবেক্ষণকারীরা বলছেন, এক্ষেত্রে সম্ভাবনা কম: কারণ নোবেল কমিটি এরই মধ্যে মহামারীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে শান্তিতে পুরস্কার দিয়েছে।

যে কোনো দেশের পার্লামেন্ট সদস্যরা এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরওয়ের পার্লামেন্ট সদস্যদের মনোনয়ন প্রাপ্তদেরই শান্তি পুরস্কার পেতে দেখা গেছে। দেশটির পার্লামেন্ট থেকেই নোবেল পুরস্কারের এ কমিটিও নির্বাচন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়ের পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে তাদের তালিকায় জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী নাভালনি, বেলারুশের বিরোধী নেতা তিকানোস্কায়া এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নাম পেয়েছে রয়টার্স।

ভল্টে সংরক্ষিত গোপনীয়তা

নোবেল কমিটির যাবতীয় আলোচনা সবসময় গোপন রাখা হয় এবং বৈঠকের কোনো বিবরণীও লেখা হয় না। সেই রীতি অনুয়ায়ী এ বছর মনোনীত ৩২৯ জনের পূর্ণ তালিকাসহ অন্যান্য নথিপত্র ‘নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটে’ কয়েকটি তালা এবং দরজায় অ্যালার্ম লাগানো একটি ভল্টে রাখা আছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সেই ভল্ট প্রকাশ্যে খুলে দেওয়া হবে। যার ভেতরের দেয়ালে নথিপত্রগুলো সারি করে রাখা আছে। এর মধ্যে সবুজগুলো মনোনয়নের এবং নীল রঙেরগুলো চিঠিপত্র।

কী প্রক্রিয়ায় একজনকে নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয় সে বিষয়ে ইতিহাসবিদদের কাছে এটা একটা গুপ্তধন পাওয়ার মতো বিষয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ ১৯৭১ সালে শীতল যুদ্ধের সময় পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে উত্তেজনা কমাতে অবদান রাখায় পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর উইলি ব্র্যান্ডৎকে পুরস্কৃত করার নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

নোবেল ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিয়ান ব্জোয়ের্ন ভাঙেন বলেন, “বর্তমানে যে ইউরোপকে আপনি দেখছেন তা এসব চেষ্টারই উত্তরাধিকার।”

নথিপত্রে দেখা গেছে চূড়ান্ত পর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ফরাসি কূটনীতিক জ্যাঁ মনেকে পরাজিত করে পুরস্কার জিতেছিলেন পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর ব্র্যান্ডৎ। মনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশ্য ৪১ বছর পর ২০১২ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে।

Share if you like

Filter By Topic