১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

নিয়ম মতো জীবন যাপনে সুস্থতা


শবনম জাবীন চৌধুরী | Published: November 14, 2021 16:54:35 | Updated: November 14, 2021 20:55:16


ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর নভেম্বর মাসের ১৪ তারিখ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও এই দিনটিতে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা ও শিক্ষামূলক প্রচারণা এবং বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে প্রতি দশ জনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ডায়াবেটিস রয়েছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্যানুসারে, গড় হিসেবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার কেবলমাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়ে থাকেন।

অবাক করা বিষয়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কেবলমাত্র ২৫ শতাংশ তাদের রোগাবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাকি ৭৫ শতাংশ জানেনই না যে তাদের শরীরে ডায়াবেটিস বাসা বেঁধেছে।

কথা হয়েছিল বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে, তিনি দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিসে ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবনেও তার রক্তে সুগারের মাত্রা ছিল প্রায় অনিয়ন্ত্রিত। পরবর্তীতে ঔষধের সেবনের পাশাপাশি চিকিৎসক প্রদত্ত উপদেশগুলোও মেনে চলতে শুরু করেন একসময়। এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু বিষয়ও মেনে চলতে শুরু করি এবং লক্ষ্য করি যে আমার ব্লাড সুগার কমতে শুরু করেছে যা সবসময় অনেক বেশী থাকতো। এখন আমার ব্লাড সুগার রেঞ্জের মধ্যেই থাকে এবং আমি আমার পরিবারের বাকি সবার মত স্বাভাবিক জীবনযাপনই করছি।

ডায়াবেটিসকে বলা হয়ে থাকেএকধরণের নীরব ঘাতক। এটি ধীরে ধীরে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে থাকে যার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বড়ে যায়।

তবে ডায়াবেটিস রোগীরা চিকিৎসার পাশাপশি যদি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নিয়ম মেনে চলেন, তবে তারাও কিন্তু সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। চলুন দেখে নেয়া যাক ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় নিয়মাবলী সম্পর্কে-

খাদ্যাভ্যাস

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে খাদ্যাভ্যাস। খাদ্যাভ্যাসের উপর আপনার দেহে রক্তে সুগারের মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে। তাই কোন ধরনের খাবার, কি পরিমাণ বা কোনগুলো একসাথে খাওয়া যাবে বা যাবে না সে বিষয়ে আপনার অবগত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয়-

--আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে কোন খাবারে কতটুকু শর্করা রয়েছে। বিশেষত যারা খাবারের পূর্বে নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এটা জানা খুবই জরুরি এবং আহারে বিদ্যমান শর্করার উপর ভিত্তি করেই ইনসুলিনের ডোজ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

--সঠিক পরিমাণে আহারের জন্য আপনি যেকোন ধরনের পরিমাপক কাপ ব্যবহার করতে পারেন।

--প্রতি আহারে কোন খাবারগুলো( ফলমূল, শাকসবজি, শ্বেতসার, আমিষ, চর্বি) আপনার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে সে বিষয়ে কোন একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সাথে আলোচনা করে নিন।

--ঔষধ সেবন ও আহারের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রাখতে হবে। নতুবা রক্তে হঠাৎ করেই সুগারের মাত্রা বেড়ে বা কমে যেতে পারে যা আপনার জীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে। তাই এ বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলতেভুলবেন না।

--কোমল পানীয় উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এবং খুবই সীমিত পরিমানে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় তা সাধারণত পরিহার করাই শ্রেয়।

পথ্য

রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে আনার ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার জন্য চিকিৎসকগণ ঔষধ প্রদান করে থাকেন। তবে সঠিক সময়ে এবং সঠিক মাত্রায় ঔষধ সেবনই কার্যত আপনার জন্য ফলপ্রসূ হবে। তাই-

--ঔষধ সেবনের পরও যদি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ এবং ঔষধ সেবনের সময় পরিবর্তন করতে হবে।

--ইনসুলিন খুবই তাপমাত্রা সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাই এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

--শারীরিক অন্যান্য জটিলতার জন্য চিকিৎসক নতুন কোন ঔষধ প্রদান করলে তা ডায়াবেটিসের ঔষধের উপর কোন প্রভাব ফেলবে কিনা সে ব্যাপারে চিকিৎসকের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

শারীরিক ব্যায়াম

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শারীরিক ব্যায়ামও অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ ব্যায়ামের সময় দেহের পেশীগুলো রক্তে উপস্থিত সুগার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করে থাকে ফলে এর মাত্রা কমে যায়। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। প্রতিদিন ঠিক কতটা সময় শারীরিক ব্যায়াম আপনার জন দরকার সে বাপারে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নিতেপারেন।

মানসিক উদ্বিগ্নতা

মানসিক উদ্বিগ্নতার ফলে আপনার দেহ থেকে কিছু হরমোনের নিঃসরণ ঘটে যা আপনার রক্তে সুগারের মাত্রাকেও বাড়িয়ে দেয়। তাই জীবনের চলার পথে উদ্বিগ্নতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। হাসিখুশি থাকুন, আপনার সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কে জানুন এবং আপনার কর্মক্ষমতা অনুযায়ী জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে শিখুন। এছাড়াও যেকোন মানসিক উদ্বিগ্নতার ক্ষেত্রে আপনি চাইলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথেও আলোচনা করতে পারেন।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like