Loading...

না’ বলতে ভয়?

| Updated: August 22, 2021 15:16:45


না’ বলতে ভয়?

'হ্যাঁ' এবং ‘না'। খুব সামান্য অক্ষর খরুচে শব্দ দুটো। প্রতিনিয়ত আমাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করে। কেউ তখন ভালোবেসে বুকে তুলে রাখে 'হ্যাঁ', আর কেউবা 'না'। যারা মাহাত্ম্য জেনে ‘না’ বলে, তাদের জানাই অভিনন্দন। আর যারা বুঝে না বুঝে সবসময় ‘হ্যাঁ’ উচ্চারণে অভ্যস্ত, তাদের বলি, পড়ুন আমাদের আজকের আয়োজন।

কোনো কাজে বসছে না মন, তবু 'হ্যাঁ' বলার মানে হচ্ছে, আপনার প্রিয় স্বপ্নকে অস্বীকার করা। কারো সাথে জমছে না আলাপন, তবু পড়ে থাকার মানে- সুন্দর আড্ডাকে অসম্মানিত করা। আরও হাজারখানেক বিষয় উদঘাটন করা সম্ভব, যেখানে ছোট একটি ‘না’ বলার অভাবে, জীবন হয় বিষময়। তবে, নিম্নোক্ত কিছু বিষয় মাথায় রাখলেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব এই অহেতুক বাধ্যবাধকতাময় বন্ধন থেকে।

লক্ষ্য সম্পর্কে স্বচ্ছতা

আপনি যা করতে চান, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, স্বচ্ছতা ব্যাপারটির মাহাত্ম্যই এমন যে, কোথায় ‘না’ বলা উচিত আর কোথায় ‘হ্যাঁ’, তার সত্য উত্তর আপনাকে খুঁজে দেয়।

প্রভাব সম্পর্কিত জ্ঞান

জীবনের যেকোনো কাজে, সে কাজের সমূহ প্রভাব সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা অনস্বীকার্য। অর্থাৎ, আপনি যা-ই করুন না কেন, তার থেকে ফেরত হিসেবে কী পেতে পারেন, তা জানতে পারা। আপনি যখন কাউকে চট করে কোনো বিষয়ে সম্মতি দেবেন, ঠিক তার আগে ভেবে নেয়া দরকার, কেন দিচ্ছেন। এতে আপনার লাভ, না দিলে ক্ষতি, অথবা ‘হ্যাঁ’ বলার ফলে আপনার জীবনে তা কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভাবনায় এমন ব্যবচ্ছেদ করা গেলে, খুব সহজেই গুরুতর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

'না' বলা অন্যায় নয়

কোনটা ন্যায়, আর কোনটা অন্যায়, তার উত্তর দেয়া মুশকিল। তবে আপাতদৃষ্টিতে, নিজের ভালো বুঝতে পারার পাশাপাশি অন্যের ক্ষতি না করাকে ন্যায় বলা যায়। কিছু কিছু সময় আমরা অনেকেই নিজের ক্ষতি সাধন করে হলেও, অন্যকে ‘না’ বলি না। কিংবা, পারি না। আমরা ভাবি, না বলতে পারাটা একধরনের অন্যায় কিংবা পাপ। এই বোধ থেকে বেরোতে গেলে, প্রথমদিকে বলা কথাগুলো মাথায় রাখা ভালো।

কার জন্য কী মাধ্যম

কাকে কীভাবে ‘না’ বলা যায়, তা সবসময়ই নির্ভর করে, ব্যক্তির সঙ্গে আপনার সম্পর্কের গভীরতার উপর। সবাইকে একই কৌশলে ‘না’ বলা যায় না, এবং তা সঠিকও নয়। ধরুন, খুব কাছের মানুষকে ‘না’ বলার প্রশ্নে, সেলফোনের ব্যবহারের চাইতে সাক্ষাতে বুঝিয়ে বলা উত্তম। এতে সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা যেমন থাকে না, বরং ব্যক্তি আপনাকে সুন্দরভাবে বুঝতে পারার অবকাশ পায়।

সম্মানের সাথে বলা

অনেকসময় খুব খারাপ উক্তিও সুন্দর উপস্থাপনের দরুন মার্জিত হয়ে ওঠে। আসলে, কথা বলার সঠিক কৌশল এমন এক শিল্প, যা দিয়ে পৃথিবী জয় করা যায়। আপনি কাউকে ‘না’ বলতে চাইলে, অবশ্যই তা সুন্দরভাবে বলার অভ্যাস করুন। আপনার বলার ধরনে, ‘না’ উচ্চারণ সত্ত্বেও, ব্যক্তির কাছে আপনি সম্মানিত কেউ হয়ে ওঠতে পারেন।

বিকল্প জ্ঞান

একই মুহূর্তে অন্য যেকোনো কাজ আপনার থাকতে পারে, আবার সমান সময়ে অন্য কারো সাথে গুরুত্বপূর্ণ দরকার থাকাও অস্বাভাবিক নয়। এমন সংকটে, বিকল্প জ্ঞান আপনাকে উদ্ধার করতে পারে। যেমন, আমরা কেউই সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি না, অথবা আপনার একটি কাজ কাছের কোনো বন্ধুকে দিয়েও সমাপন করার সুযোগ হয়তো আছে।

তাই, ‘না’- এর বিকল্প কিছু খুঁজে নিয়ে পরোক্ষ উপায়ে ‘না’ বলাটা শিখতে হবে। এতে ক্ষতির সম্ভাবনাও প্রায় শূন্য হয়।

অতি সহজলভ্যতা

কথায় আছে, ‘সস্তার তিন অবস্থা’। অনেকসময় ভালো কাজ করেও কেউ কেউ সঠিক সম্মানটুকু পায় না। তার দায় কিছুটা স্ব-উদ্ভাবিত। আসলে আপনি যখন সবার দরকারে খুব সহজলভ্য হয়ে পড়বেন, তখন অনেকেই তা নেতিবাচক অর্থে আপনার উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করতে চায় বা করে। তাই, সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলার ফলে আপনি যে অতি সহজলভ্য হয়ে পড়ছেন, সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখুন। এতে ‘না’ উচ্চারণে সুবিধা হয়।

ভুলে কিংবা নির্ভুলে পৃথিবীতে যেহেতু এসে গেছি, সেহেতু একটু কায়দা করে বেঁচে থাকাটাই তো মঙ্গলের। মাঝে মাঝে মনে হতে পারে, যা হচ্ছে হোক, ভাবনার ঘরে তালা দিয়ে থাকব চোখ বন্ধ করে। তবু, কে না জানে, আয়ু ফুরাবার আগ পর্যন্ত চোখের যে নিস্তার নেই একদণ্ড! তাই চলার পথটাকে আরেকটু মসৃণ করতে রপ্ত করে নিন, ‘না’ বলার কায়দাগুলো।

সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

sanjoydatta0001@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic