দিনের শুরু যেমন হবে - নতুন সূর্যালোকে নতুন করে বাঁচুন


অনিন্দিতা চৌধুরী | Published: December 08, 2021 18:10:42


দিনের শুরু যেমন হবে - নতুন সূর্যালোকে নতুন করে বাঁচুন

একটি সুন্দর শুরু সবসময় একটি সুন্দর শেষের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, একথা যেমন সত্য, তেমনি এটিও সত্য যে সুন্দর শুরুর মাধ্যমে আপনি নিজের মধ্যে অনেকটা ইতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে দিতে পারেন, যা দিনটি ভালো কাটবার সম্ভাবনাকে অনেকগুন বাড়িয়ে দেয়।

গতকাল থেকে মুক্তি

অতীত নিয়ে ভাবতে থাকা সময় কাটানোর অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে প্রায়ই। তবে সেই ভাবনা যদি বর্তমানকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলে, তখন মুশকিল হয়। অতীত, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যত- এই প্রতিটি সময়ের রয়েছে নির্দিষ্ট আবেদন।

এ নিয়ে দার্শনিক রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের একটি উক্তি প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, আগামীকাল একটি নতুন দিন। পুরনো সব জঞ্জালের নাগপাশে না জড়িয়ে এই দিনটি শান্ত মনে শুরু করুন।

ভাবনায় থাকুক ভালো কিছু

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আগের দিনে কী বাজে ঘটেছে, দিনটা কত ব্যর্থতা দিয়েছে- সেসব কিছুই ভাববেন না। ভাবুন আজকের কথা, আজকের এই সকালটার কথা। প্রতিটি সকাল আমাদের জন্য একটা উপহার। এই উপহারটাকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করব তার পুরোটাই আমাদের উপর নির্ভর করে।

ভালো বিষয়গুলো নিয়ে ভালো করে ভাবুন। আপনার জীবনে এ মুহূর্তে ভালো কী কী আছে, কোন মানুষগুলো আপনার জীবনে ভালোবাসা বিলিয়ে দিচ্ছে, আপনার নিজের ব্যক্তিত্বের ভালো দিকগুলো কী- এই সব ভালো ভাবনার মধ্য দিয়েই শুরু হোক সকালের প্ল্যাটফর্মে পুরোটা দিনের যাত্রা।

কৃতজ্ঞতায় বাঁচুন

ধন্যবাদ দিতে শিখুন। কৃতজ্ঞতা সুখী মানুষের অন্যতম নিদর্শন। আমরা আসলে খুব বেশি হা-হুতাশ করি। হ্যাঁ, হা-হুতাশ করার জন্য, অভিযোগ করার জন্য অনেক অনেক জিনিস আছে জীবনে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে বেশি বেশি ভাবলেই কিন্তু তা চলে যাচ্ছে না, বরং মানসিক চাপ আর ভালো না থাকার অসুখ চেপে বসছে কাঁধে।

পুরনো ব্যর্থতা নতুন ব্যর্থতাকে উসকে দিচ্ছে, নতুন সাফল্য আসবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ধন্যবাদ দিন সেই মানুষগুলোকে, যারা অনেক উত্থান-পতনের পরও আপনার সাথে পথ চলছে, ধন্যবাদ দিন আপনার ছোট ছোট কাজ করে দেয়া মানুষগুলোকেও। আপনার একটি ধন্যবাদে হয়তো অন্য কারো সকালটাও সুন্দর হতে পারে।

যত্ন নিন শরীরের

একটিভালো দিনের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয় হচ্ছে শরীর ও মনের একসাথে ভালো থাকা। মনের সুস্থতা চর্চায় যত্নবান হবার পাশাপাশি তাই নজর দিন শরীরের দিকেও। কিছু নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করুন। কাজ শুরুর আগে খানিক বেড়িয়ে আসুন, হেঁটে ফেলুন বেশ কয়েক পা। এতে ক্যালরি ঝরার পাশাপাশি মেজাজও হবে ফুরফুরে।

সময় পেলে কিছুক্ষণ মেডিটেশন করতে পারেন কিংবা সেরে নিতে পারেন হালকা ব্যায়াম। এছাড়া, সকালের খাবারটা যাতে স্বাস্থ্যকর হয়, সেদিকেও নজর দিন। দিনের প্রথম খাবারই দিনের সবচাইতে বেশি শক্তি যোগানকারী। কোনো বিশেষ কারণ না থাকলে ওটা বাদ দিয়ে দিনের শুরুতে কমতি আনার দরকার নেই।

কাজের তালিকা

ছাত্রজীবন হোক বা কর্মজীবন, সবখানেই আমাদের বেশ কিছু কাজ থাকে এবং সেগুলো ঠিক সময়ের মধ্যে করতে গিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। এক্ষেত্রে ভালো একটি পদ্ধতি হতে পারে, প্রতিদিনের একটি কর্মতালিকা তৈরি করা।

সকালের চা খেতে খেতে যদি আজকের জরুরি কাজগুলো লিখে ফেলেন, তাহলে পুরো দিনটা আপনি কীভাবে কাটাতে যাচ্ছেন- সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। নিজের জন্য বিশ্রামের সময়টাও টুকে নিতে পারেন সে অনুযায়ী।

আজকের দিনটা একটা নতুন দিন। এই সকালটা একটা সাদা ক্যানভাস, যাতে আপনি কী রঙ ছড়াবেন, কেমন করে আঁকিবুঁকি কাটবেন, তার সবটা না হলেও বেশিরভাগ আপনার হাতে। আপনার হাতের রঙ আর তুলির সদ্ব্যবহার করুন, আজকের দিনটা গত কালকের চাইতে একটু বেশি বাঁচুন। একটু বেশি ইতিবাচক হয়ে উঠুন আজ সকালের সূর্যালোকে।

অনিন্দিতা চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। anindetamonti3@gmail.com

Share if you like