Loading...

দামে স্বস্তি ফেরাচ্ছে নতুন পেঁয়াজ

| Updated: December 18, 2021 18:06:38


ফাইল ছবি (সংগৃহীত) ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

বাজারে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় কমতে শুরু করেছে দাম; তবে ব্রয়লার মুরগি হাঁটছে উল্টো পথে।

ঢাকার বাজারগুলোতে শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে; গত সপ্তাহে যা ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সেই সঙ্গে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও কমেছে, প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।

ঘূর্ণিঝড় জোয়াদের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় নতুন পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির অজুহাত দেখিয়ে গত সপ্তাহে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।

রামপুরা কাঁচাবাজারের মাহিন স্টোরের বিক্রেতা মাইদুল ইসলাম মাহিন বলেন, “গত তিন-চার দিন ধরে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে এখন সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমেছে।”

অবশ্য পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেশি কমেছে বলে জানালেন বিক্রেতারা।

শ্যামবাজারের আড়ৎদার আব্দুল কুদ্দুস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশি পেঁয়াজ ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দলে বিক্রি করছেন তারা।

“একদিকে আমদানি বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসছে। এর প্রভাবেই দামটা কমছে।”

বাজারে ফার্মের ডিমের দামও কমেছে। বেশ কয়েক মাস ধরে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এখন তা নেমে এসেছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

তবে খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানালেন। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে ছিল।

ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে শান্তিনগর বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, “সরকারি ছুটি, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের কারণে বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তাতে দাম বেড়েছে।”

তবে অল্প কয়েক দিনেই দাম কমে আসবে- এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু করেছে, সবজি বাজারে ভরপুর হলে মুরগির দামও কমে আসবে।”

কাপ্তানবাজারের শাহিনুর হেনস হাউজের মালিক ওমর ফারুক জানান, শুক্রবার তারা পাইকারিতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছেন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

এই পাইকারি বিক্রেতাও দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিজয় দিবস ঘিরে ছুটির মধ্যে অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ার কথা বললেন। 

ব্রয়লারের দাম বাড়লেও সোনালী মুরগি এবং দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি সোনালী মুরগী ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। 

উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বললেন, “বাজারে গেলে দেখা যায় যখন-তখন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, কারণে-অকারণে দাম বাড়ে। আসলে নিত্য-পেণ্যর বাজারে সরকারের মনিটরিং নেই বললেই চলে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছিল, আবার হুট করে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হল। নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা এখন আবার মুরগির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের যথাযথ নজরদারিটা দরকার।”

Share if you like

Filter By Topic