অয়েল পুলিং বা তেল দিয়ে কুলকুচা করা দাঁতের যত্নে প্রাচীন পদ্ধতি হলেও কার্যকর পন্থা।
মাউথওয়াশয়ের মতো করেই তেল মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে হয়। তবে এই পদ্ধতি কি কোনো কাজ করে? কতটুকুই বা নিরাপদ?
নিউ ইয়র্কের লেস বেলেসয়ের দন্ত চিকিৎসক শ্যারন হুয়াং রিয়েল সিম্পল ডটকময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, প্রায় তিন হাজার বছরের পুরানো এই অয়েল পুলিং। ভারতীয় আর আয়ূর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্র থেকেই এর উৎপত্তি। নারিকেল তেল, সূর্যমুখীর তেল, তিলের তেল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় এই পদ্ধতিতে। কয়েক মিনিট ধরে তেল দিয়ে কুলকুচা করলে মুখের ভেতরের ব্যাক্টেরিয়া ও খাদ্যকণা বেরিয়ে আসে তেলের সঙ্গে।
নিউ ইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গের ডমিনো ডেন্টালয়ের লিলিয়া হরোউটজ বলেন, নারিকেল তেলই অয়েল পুলিংয়ের কাজে সবচাইতে বেশি ব্যবহার হয়।
কতটুকু নিরাপদ?
তেল যদি কেউ গিলে না ফেলেন তবে অয়েল পুলিংয়ের এ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। তেল পেটে গেলে পেট খারাপ হতে পারে।
ডা. হুয়াং বলেন, অয়েল পুলিং একদম নিরাপদ, উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর। এতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে দাঁত পরিষ্কার ও উজ্জল হয়। পাশাপাশি এতে মুখের ভেতর বেশি লালারস তৈরি হয়, যা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়ক।
নিউ ইয়র্কের আরেক দন্ত চিকিৎসক অ্যালেক্স রুবিনফ বলেন, মুখের ভেতর উপকারী মাইক্রোবায়োময়ের মাত্রা বাড়ানোর দারুণ একটি পদ্ধতি এই অয়েল পুলিং। পাশাপাশি দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া বের করে আনতে অত্যন্ত কার্যকর। নিত্যদিন এই পদ্ধতি অনুসরণের কোনো ক্ষতিকর প্রভাব এখনও সামনে আসেনি। তবে মুখে তেল নেওয়ার কারণে ভেতরটা অনেক মসৃণ হয়ে যায়। এই অনুভূতি কারও কাছে ভালো আবার কারও কাছে মন্দ।
উপকারিতা
ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে, দুর্গন্ধ দূর করে এবং মুখের ভেতরে প্রদাহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কমায় এই পদ্ধতি, এমনটাই দাবি করে গবেষণা।
দন্ত চিকিৎসকরা এই পদ্ধতির জন্য নারিকেল তেল কিংবা অন্যান্য অর্গানিক তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
ডা. হুয়াং বলেন, নারিকেল তেলে থাকে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। এতে আরও আছে ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাক রোধী প্রাকৃতিক গুন। ফলে প্লাক জমতে পারেনা, আশঙ্কা কমে জিনজিভাইটিসয়ের।
তবে আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন এই পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেয় না। তাই সাবধান থাকাও জরুরি এবং দাঁত ব্রাশ করার বিকল্প হিসেবে একে ধরে নেওয়া চলবে না।
সঠিক পদ্ধতি
ডা. রুবিনফ বলেন, এক চা-চামচ নারিকেল তেল মুখে নিয়ে পাঁচ মিনিট কুলি করুন। সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত এই তেল মুখ নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কুলি করতে পারেন। সবাই মুখে এই ভিন্ন স্বাদ সহ্য করতে পারে না। তাই একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন, ভালো না লাগলে বাদ দিন। আর ভালো লাগলে বাড়াতে পারেন তেলের পরিমাণ ও সময়সীমা।
ঝুঁকি
ডা. হুয়াং বলছেন, অয়েল পুলিংয়ের একমাত্র ঝুঁকি তেল গিলে ফেলাটাও তেমন বড় কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। কারণ যে তেলগুলো এতে ব্যবহার করা হয় তার সবগুলোই ভোজ্য, রান্নায় ব্যবহার হয় হরহামেশাই। খুব বেশি হলে পেট খারাপ, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।