Loading...
The Financial Express

থানা-কারাগারে দ্রুত বায়োমেট্রিক চালুর তাগিদ দিল হাই কোর্ট

| Updated: September 09, 2021 20:16:37


থানা-কারাগারে দ্রুত বায়োমেট্রিক চালুর তাগিদ দিল হাই কোর্ট

প্রকৃত আসামি শনাক্তে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করে দেশের সব থানা ও কারাগারে আসামিদের এবং অভিযুক্তদের আঙুল ও হাতের তালুর ছাপ, চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি যুক্ত করতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাই কোর্ট।

সেই সাথে প্রেপ্তারের পর আসামি বা অভিযুক্তের সম্পূর্ণ মুখের ছবি (মাগশট ফটোগ্রাফ) নিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছে আদালত। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

আদালত বলেছে, বায়োমেট্রিক করার জন্য উদ্যোগ নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পর্যাক্রমে এসব বাস্তবায়ন করা দরকার।

এক রিট মামলায় রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ রায় দেয়।

আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি ধারণ করতে হবে। শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে বিদ্যমান শনাক্তকরণ ফরমে আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি যুক্ত করার বিধান প্রবর্তন করতে হবে এবং তা কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণ করতে হবে।

দেশের সব কারাগারে আঙুলের ছাপ (ফিংগার প্রিন্ট), হাতের তালুর ছাপ (পাম প্রিন্ট) ও চোখের মণি (আইরিশ) স্ক্যানিং ব্যবস্থাযুক্ত বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।

শিশির মনির পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত পর্যবেক্ষণসহ রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন। রিট আবেদনকারী জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরোয়ানাকে অবৈধ এবং আইনবহির্ভূত ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল সিস্টেম বা বায়েমেট্রিক সিস্টেম চালু করা হলে আমাদের দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অবশ্যই উন্নতি হবে এবং এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে চলতে পারব। তারপরেও যদি ঘটে সেটা খুবই নগন্য হবে। অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে।”

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকার খিলগাঁও থানায় নাশকতার মামলায় পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রামের মোদাচ্ছের আনছারী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর মোদাচ্ছের তার নাম-ঠিকানা গোপন করে নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভাধীন আজগর আলী মোল্লাবাড়ি মসজিদ রোড এলাকার মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামে পরিচয় দেয়।

এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মোদাচ্ছের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে পালিয়ে যায়। সে জহির উদ্দিন নামেই আদালতে জামিনের আবেদন করেছিল।

এদিকে পুলিশ তদন্ত শেষে জহির উদ্দিনসহ অপরাপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয়। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর জহির উদ্দিন আইনি প্রক্রিয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মূল আসামি মোদাচ্ছের আনছারীর ছবি এবং শারীরিক বর্ণনাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন জহির।

আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছর ১০ মার্চ হাই কোর্ট রুল দেওয়ার পাশাপাশি জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত করে অন্তবর্তী আদেশ দেয়।

প্রকৃত আসামি নির্ণয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়।

জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভুত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

আদালতে জমা দেওয়া পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, জহির উদ্দিনকে খিলগাঁও থানার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারী আসামি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জহির উদ্দিন প্রকৃতপক্ষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারী ব্যক্তি নন। প্রকৃত আসামি মোদাচ্ছের আনছারী ওরফে মোহাদ্দেস।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর রুল শুনানি করে রায় দিল আদালত।

জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভুত ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

Share if you like

Filter By Topic