তেল, ডাল, আটার দাম বেড়েছে, কমেছে পেঁয়াজ, মুরগির


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: January 21, 2022 19:55:45 | Updated: January 22, 2022 17:48:09


ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে নতুন করে আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, ডাল ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের পরিসংখ্যানেও নিত্যপণ্যের দরের ওঠানামার এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা আটা কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা; আগের সপ্তাহ যা ছিল ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা। তবে প্যাকেটজাত আটার দাম বাড়েনি। আগের মতো প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে প্যাকেটজাত ময়দার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা; আগের সপ্তাহ যা ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যেতেলের দাম বাড়াতে প্রস্তাব দিলেও তাতে সায় দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরমধ্যেই খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৪৮ টাকায়। আগের সপ্তাহে এ দর ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।

তবে বোতল বা প্যাকেটজাত তেলের দাম এখনও বাড়েনি বলে জানালেন দোকানিরা। আগের মতোই ব্র্যান্ডভেদে প্রতি লিটার ১৫৮ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে পাম অয়েলের দামও লিটারে ১/২ টাকা বেড়ে ১৩২ থেকে ১৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; গত সপ্তাহ যা ছিল ১৩০ থেকে ১৩৬ টাকা।

বাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে ডালের দামবৃদ্ধিও ক্রেতাদের গায়ে লাগছে। মশুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। একই পরিমাণ বেড়েছে মুগ ডালের দাম; বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০ টাকায়।

রামপুরা কাঁচাবাজারের তাহের স্টোরের মালিক আবু তাহের বলেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে আটা, ময়দা, তেল, ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোম্পানিগুলো থেকে আমাদের কেনা যখন বেশি পড়ে, তখন তো খুচরায় বাড়াতে হয়।

এসব পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপরীতে কমেছে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদাও ব্রয়লার মুরগির দাম।

নতুন আলু আসার পরিমাণ বাড়তে থাকায় ২/৩ টাকা কমে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। পেঁয়াজের দরেও প্রভাব রেখেছে সরবরাহ বৃদ্ধি। এতে কেজিতে ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজও কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

আর আমদানি করা রসুন কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের দর নেমেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

দেশি আদার দামও কেজিতে অন্তত ১০ টাকা কমে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

উত্তর বাড্ডা বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের দোকানি মো. মানিক বেপারী বলেন, আলু, পেঁয়াজ, রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। কৃষক পর্যায় থেকে বেশি পরিমাণে এসব পণ্যের সরবরাহ থাকায় বাজারে দাম কমেছে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগি দাম কমলেও বেড়েছে ফার্মের ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।

তবে সোনালী ও লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত আছে। প্রতি কেজি সোনালী মুরগি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা এবং লেয়ার ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এর বিপরীতে ফার্মের ডিম প্রতি ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা।খুচরা বাজারে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

শান্তিনগর বাজারের ভাই ভাই ব্রয়লার হাউজের খুচরা বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, সরবরাহ বেশি থাকায় মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে। সব ধরনের মুরগির দাম গত এক থেকে দেড় মাস আগে বাড়লেও এখন কমছে।

কাপ্তান বাজারের পাইকারি শাহিনুর হেন্স হাউসের মালিক ওমর ফারুক জানান, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক সামাজিক ও অফিসিয়াল অনুষ্ঠান কমে গেছে, যে কারণে মুরগির দাম কমেছে।

তবে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তেজগাঁওয়ের জিলানী মার্কেটের ইসলামী ট্রেডার্সের পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী মো. ইসলাম বলেন, বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম এখনও চড়া। সবজির দামের কারণে ডিমের চাহিদা বেড়েছে, এজন্য এর দামও বেড়েছে।

রামপুরার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, মহামারীর কারণে এমনিতে মানুষের আয় কমে গেছে। এর মধ্যে প্রায় সব জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে সরকারি নজরদারি বাড়ানো গেলে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা হলেও জনগণের ক্রমক্ষমতার মধ্যে থাকত। সেটা আমরা দেখতে পাই না।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা কমলেও মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এখন কমে তা বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৭২ টাকায়।

তবে মাঝারি ও মোটা জাতের চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে মাঝারি জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। মোটা জাতের পাইজাম, লতা, স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে।

শান্তিনগর বাজারের মেসার্স ফিরোজ রাইস স্টোরের মালিক ফিরোজ আলম বলেন, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের দাম অপরিবর্তিত আছে। এর আগে দুই-তিন সপ্তাহ কিছুটা বেড়েছে। সরু চালের দাম কখনও দুই-তিন টাকা বাড়ে বা কমে। এ সপ্তাহে একটু কমেছে।

Share if you like