বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯৭১ সালে শিশু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমানকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বলার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি দাবি করেন, একাত্তরে জিয়ার আহ্বানেই এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
রোববার বিকালে ঢাকায় বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজয় শোভাযাত্রা করে বিএনপি। বর্ণিল এই শোভযাত্রায় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
নয়া পলটন থেকে শোভাযাত্রা বের হওয়ার আগে সমাবেশ ফখরুল বলেন, আজকের এই র্যালি বাংলাদেশের জনগণের নতুন করে জেগে উঠবার র্যালি, আজকের এই র্যালি বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম শুরু করার র্যালি, আজকের এই র্যালি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবার র্যালি ।
দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নতুন করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিচ্ছে।
এই আন্দোলনে সফল হওয়ার আশা প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, এর মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব, তার আমরা সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবো। একই সাথে আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে, যিনি ১৯৭১ সালে শিশু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাকে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে এখানে আমাদের নেতৃত্বে বসাতে পারব।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রের জন্য, তিনি আজকে এই সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন।
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা জোর করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা আজকে ১৯৭১ সালের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে, চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে গোটা জাতির উপরে নির্যাতন-নিপীড়নের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা একে একে আমাদের অর্জিত সমস্ত কিছু, আমাদের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করেছে, আমাদের স্বাধীনতা ধ্বংস করেছে, আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, লেখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
সেইজন্য এই র্যালি আজকে গুরুত্বপূর্ণ, বলেন তিনি।
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দুপুরের পর এই সমাবেশ ও শোভাযাত্রা হলেও তার অনেক আগে থেকেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে সমাবেশ নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কর্মীদের হাতে ছিল লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা এবং জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় খোলা ট্রাকের মঞ্চে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে শোভাযাত্রা শুরুর ঘোষণা দেন।
শোভাযাত্রার সামনে ছিলো মুক্তিযোদ্ধা দল এবং এরপরে মহিলা দল ও ছাত্রদল। কৃষক দলের কর্মীরা সবুজ রঙ এবং যুবদলের কর্মীরা লাল রঙ এর টুপি পড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
নয়া পল্টনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড় ঘুরে আবার নয়া পল্টনে ফিরে শেষ হয় এই শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা ও সমাবেশের কারণে কাকরাইল, মালিবাগ, বিজয়নগরসহ বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।