শনিবার শিক্ষা বিষয়ক এক আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুই বছর চুপচাপ থেকে লেখাপড়ার করার পরামর্শ দেওয়ায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে হুমকি দিয়েছেন ছাত্রদলের এক নেতা।
এর জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ভয় দেখিয়ে তাঁর কন্ঠস্বর বন্ধ করা যাবে না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক খবরে বলা হয়, জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মানিক মিয়া হলে ‘এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ’ এর উদ্যোগে ‘শিক্ষায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে যে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, এটা বিএনপির লোকেরা হয়ত উপলব্ধিই করে না।
তিনি বলেন, “আজকে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে আল্লাহর ওহি দিয়া। সেই ওহি লন্ডন থেকে ভেসে আসে ইনারা একেকজন।”
এসময় তিনি আরও বলেন, “তারা (বিএনপি) যদি উনার মুক্তি চায়, আমি বারে বারে বলেছি, তারেক (তারেক রহমান) দুই বছর চুপচাপ বসে থাকো। পারো তো বিলাতে লেখাপড়াতে যুক্ত হয়ে যাও। সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া করা যায়।”
এই সময়ে দর্শক সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক কাউসার প্রতিবাদ জানিয়ে, সালাম দিয়ে বলেন, ‘‘স্যার আপনি বিএনপির কে? আপনি সবসময় বিএনপিকে নিয়ে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন।”
জবাবে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘‘আমি বিএনপির কিছু না। ওই যে গণতন্ত্রে আমার কথা বলার অধিকার আছে। আমার কথাটা শুইনা তারপরে বলেন। আপনাদের ভালোর জন্য কইতাছি। আপনাদের ভালোই বুঝেন না আপনারা।”
এই পর্যায়ে কাউসার আবার বলেন, ‘‘না, আমরা আমাদের ভালো অবশ্যই বুঝি। আপনি উল্টা বুঝেন। আপনি আমাদের নেতাকে নিয়ে কথা বলবেন না, কখনই বলবেন না। আপনি সব সময় আমাদের নেতা নিয়ে কথা বলেন।”
"যদি বলেন, পরবর্তিতে কিছু হলে কিন্তু আমরা দায়ী না। ধন্যবাদ। আপনি জয়কে (সজীব ওয়াজেদ) নিয়ে বলেন, তাকে নিয়ে তো কিছু বলেন না, সিনিয়রদের নিয়ে বলেন।”
এই বলে ছাত্র দল কর্মীরা আলোচনা স্থল থেকে বেরিয়ে যান।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘‘আপনারা দায়ী হবেন কেন? মানুষ যখন ধর্মান্ধ হয়ে যায় তখন যে সমস্যা হয় এই ঘটনা তার প্রমাণ।
তিনি আরো বলেন, “কন্ঠস্বর রুদ্ধ করা যায় না। বিশেষ করে আমার মত লোককে যাদের বয়স হয়েছে, ওই ভয় দেখিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কন্ঠস্বর বন্ধ করা যাবে না।”
