Loading...
The Financial Express

ডিম খেলে পরীক্ষায় ফেল, আর প্রিয়জন স্মরণ করলে গলায় আটকায় খাবার?

| Updated: January 01, 2022 19:18:49


ছবিঃ ইন্টারনেট ছবিঃ ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যতই উন্নতি করুক, মনের এক কোণে কল্পনাশক্তি ডানা মেলে বহুদূর। আর বিস্তৃত সেই কল্পনার ঝাপটানোতে অনেক সময় জন্ম নেয় বিভিন্ন কুসংস্কার, যার আদতে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি না থাকলেও মানুষের মুখে মুখে টিকে থাকে যুগের পর যুগ। তেমনই কিছু কুসংস্কার নিয়ে আলাপ হবে এই লেখায়। আজকের পর্বে থাকছেঃ

ডিম খেলে পরীক্ষায় গোল্লা

সেদিন সকালে সুমাইয়া জাহিদের বন্ধুর একটি বিশেষ পরীক্ষা। সকালের নাশতায় সুমাইয়া বন্ধুকে একটি ডিম ভেজে খাইয়ে দিলেন, সাথে জানালেন শুভকামনা। এটুকু শুনেই কেউ কেউ দাঁতে জিভ কাটতে চলবেন, কেননা ডিম খেয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে যে একটি ডিম ফেরত নিয়ে আসতে হয়- এমন কুসংস্কার খুব কম লোকেরই অজানা। তবে চিন্তার কিছু নেই, সুমাইয়ার বন্ধুটি সে পরীক্ষায় ভালোভাবেই পাশ করেছিলেন।

আর সেইসাথে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই কুসংস্কারের ‘কু’ভাবটি আবারো প্রমাণ হলো। কিন্তু এই কুসংস্কারের পেছনের কারণটা কী? আসলে এর সম্পর্ক সোজাসুজি হজমশক্তির সাথে। এমনিতেই সেসময় উদ্বিগ্নতা কাজ করে বলে কেউ কেউ ডিম খেয়ে হজম না করতে পেরে পরীক্ষার সময় অসুস্থবোধ করতে পারেন। তাই হজমশক্তির উপর বিশ্বাস থাকলে পরীক্ষার আগে ডিম থেকে সংকোচ করার কোনো কারণ নেই। ফলাফলে তার কোনো প্রভাব পড়বে না।

বিষম খাবার মানে প্রিয়জনকে স্মরণ

খেতে বসে অমনোযোগবশত হুট করে বিষম খেলে মনে করা হয়, তার কোনো প্রিয়জন হয়তো এই মুহূর্তে তাকে স্মরণ করেছে। বিষম থামানোর চেষ্টা করতে করতে ব্যক্তিটিকে এই বাক্য বলা খাবার পাতে খুবই পরিচিত দৃশ্য।

প্রকৃতপক্ষে শ্বাসনালীতে খাবার আটকে গিয়ে দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়, এর সাথে অন্য কারো কোনো সম্পর্ক নেই। তবু কেন এমনটা বলা হয়? এর কারণ হতে পারে সান্ত্বনা দিয়ে করে শান্ত করার প্রয়াস। যাতে বিষম খাওয়া ব্যক্তিটি আরো ভড়কে না গিয়ে সহজেই এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

দিনের খবর দেবে শালিক

অন্য যে কোনো পরিচিত পাখির মতোই শালিকও আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। দিনের যেকোনো সময় শালিকের সাথে দেখা হওয়া তাই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু এই সাক্ষাতকেও জুড়ে দেয়া হয়েছে শুভ-অশুভের সাথে। এ কুসংস্কার অনুযায়ী, একটি শালিক দেখলে দিন খারাপ যাবে, দুটো শালিক দেখলে ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বা দুইয়েই শুধু আটকে নেই এই গণনা, গিয়েছে আরো অনেক দূর।

ইঁদুরের গর্তে দাঁত জমা

ছোট বাচ্চাদের কাছে দাঁত পড়া নিঃসন্দেহে শারীরিক প্রথম বড়সড় পরিবর্তনগুলোর একটি। এসময় দাঁত না থাকার দুঃখে ভোগা, কখনো আর দাঁত না ফিরে পাবার ভয় কাজ করে অনেক শিশুর মধ্যেই। সেই ভীতি থেকে বাঁচাতেই যেন তাদের গল্পপ্রিয়তাকে কাজে লাগানো হয়। বলে দেয়া হয়, ইঁদুরের গর্তে দাঁত রাখতে। তাহলে ইঁদুরের মতো সুন্দর, ধারালো দাঁত পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট সময় পর যখন দাঁত ওঠে, তখন তাদের সেই কুসংস্কারটিই যেন সত্য প্রমাণিত হয়!

রাত্রি কানুন

‘রাত্রি কানুন’ প্রচলিত অর্থে আইন না হলেও কুসংস্কারে বিশ্বাসীদের কাছে তা মেনে চলা অত্যন্ত দরকারি। না মেনে চললে ঘটে যেতে পারে ‘খারাপ কিছু’। যদিও ঠিক কী খারাপ হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয় না। রাতে নখ বা চুল কাটতে নেই। বিশেষত নারীদের রাত্রিবেলা চুল খুলে বাইরে যেতে নেই। রাতে সাপের নাম বলতে নেই। রাতে অনেক কিছুই ‘করতে নেই’। কিন্তু কেন করতে নেই?

সাদা-কালো নিয়ে যেমন ভালো-মন্দের একটি প্রোথিত ধারণা রয়েছে, তেমনি রয়েছে রাত-দিন সম্পর্কেও। দিনের আলোকে যদি নতুন সম্ভাবনার প্রতীক ধরা হয়, রাতকে ভাবা হয় সবকিছুর ইতি। সে থেকেই হয়তো রাতের আঁধার, এর অপেক্ষাকৃত অশুভ হবার ধারণার শুরু। রাতের গায়ে যেন সামাজিকভাবে সেঁটে দেয়া হয়েছে এক গোপন ও নিষিদ্ধ তকমা। তাই দিনের আলোয় যেসব কাজ অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ ঠেকে, রাতের আঁধারে তা গ্রহণযোগ্যতা হারায়। রাতকে ঘিরে বিভিন্ন কুসংস্কার জন্মাবার কারণ হিসেবেও হয়তো এই ভাবনাটিই কাজ করেছে।

অনিন্দিতা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

anindetamonti3@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic