দেশের বহির্বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরির প্রচেষ্টায় প্রকৃত রপ্তানি হিসাব সনাক্তকরণের লক্ষ্যে সরকারের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ অচিরেই ১৭টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) এক্সপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট (ইজিএম) মডিউল স্থাপন করতে যাচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই মডিউল অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের স্বয়ংচালিত পদ্ধতির মাধ্যমে রপ্তানী সংক্রান্ত হিসাব সংরক্ষণ করবে।
রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, আইসিডি কমলাপুর, পানগাঁও আইসিডি, মংলা, এসএপিএল ইনল্যান্ড ওয়াটার টার্মিনাল এবং ইসহাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কন্টেইনার প্রাঙ্গনে এই মডিউল স্থাপন করেছে।
আশা করা যাচ্ছে, ইজিএম প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজস্ব বোর্ড এরই মধ্যে মালবাহী জাহাজের পণ্য পাঠানো, ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং-এর কাজে নিয়োজিত প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
শুল্ক সংক্রান্ত স্থাপনা গুলোতে ইজিএম মউিউল স্থাপন করার পর এটা জাহাজীকৃত মালামালের প্রকৃত ট্যালি নিশ্চিত করে অর্থপাচার রোধ করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্যের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।
কর্মকর্তারা বলেন যে, প্রতি বছর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ভুয়া চালানসহ অন্যান্য অবৈধ উপায়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে পাচার হচ্ছে।
আরো জানা যায়, সরকারি কার্যালয়গুলোতে প্রায়ই তথ্য-উপাত্তের গরমিল পাওয়া যায়। বিশেষ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সংগৃহীত শিপমেন্ট-পূর্ববর্তী তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত শিপমেন্ট-পরবর্তী তথ্য হিসেবে সবসময়ই তারতম্য থাকে।
ঢাকার একজন শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী যে ইজিএম মডিউল আমাদেরকে প্রকৃত হিসাব পেতে এবং এ সংক্রান্ত যে কোনো গরমিল প্রতিরোধে সহায়তা করবে।”
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) সচিব রুহুল আমিন শিকদার ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান যে, বর্তমানে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং-এর কাজে নিয়োজিত প্রতিনিধিরা নিজেরা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইজিএম-এর তথ্যগুলো জমা দিচ্ছে।
তিনি বলেন যখন সবগুলো অফডকে মডিউল স্থাপন করা হয়ে যাবে, তখন অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের স্বয়ংচালিত পদ্ধতির মাধ্যমে ইজিএম অনলাইনে জমা দেওয়া হবে।
এখন প্রতিনিধিদের নিজে হিসেব করে ইজিএম জমা দিতে হচ্ছে বলে এতে অনেক সময় জাহাজ বন্দর জেটি ছাড়ার পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে। কিন্তু অনলাইন পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া আরো তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে, জানান রুহুল আমিন শিকদার।
“এর ফলে শুল্ক কার্যালয়গুলোর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজগুলো দিয়ে কী ধরনের পণ্য কত পরিমাণে ও কী দামে রপ্তানি হচ্ছে এবং এর উপর কোনো শুল্ক প্রযোজ্য কি না এ সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হবে।”
syful-islam@outlook.com
