স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ঢাকার পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা সেতু থেকে লাফিয়ে পড়া তরুণীর লাশ ৩৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই ঘটনার পর থেকে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাগলার তালতলা এলাকায় নদীতে ভাসমান নুসরাত আক্তার মালা নামের ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নুসরাতের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ। ঢাকায় তিনি থাকতেন যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগে।
সদরঘাট নৌ থানার ওসি কাইয়ুম আলী সরদার বলেন, “ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি করছিল। শনিবার স্বজনরা নৌকা নিয়ে খুঁজছিল। স্বজনরাই সাড়ে ৯টার দিকে মৃতদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সদরঘাট ওসি কাইয়ুম আলী সরদার বলেছিলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই তরুণ-তরুণীকে সেতুর উপরে ঝগড়া করতে দেখা যায়।
“লোকজন এগিয়ে এলে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচায় দেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই তরুণী সেতুর উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে।”
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বুড়িগঙ্গা নদীতে ওই তরুণীর সন্ধানে নামে।
নুসরাতের খালা আসমা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এক বছর আগে প্রেম করে মজিবুরকে বিয়ে করেন মালা।
“কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে অশান্তি লেগে ছিল। এমনকি আমাদের সামনেই মারধর করত।”
তিনি জানান, মজিবুরদের বাসা আগে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকাতেই ছিল, কিন্তু মালার বিয়ের আড়াই মাস পর তার শাশুড়ি পটুয়াখালীতে গ্রামের বাড়ি চলে যান।
এরপর থেকে মজিবুর একটি মেসে থেকে মাস্ক তৈরির কাজ করতেন। আর মালা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মীর হাজিরবাগে থাকতেন। মাঝে মাঝে মজিবুর এসে মালাকে নিয়ে বের হতেন।
আসমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাতেও মজিবুরের সঙ্গে বের হন মালা। পরে রাতে খবর আসে, মালা সেতুর উপর থেকে লাফ দিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা কাইয়ুম আলী সরদার বলেন, মজিবুরকে আটক করা হয়েছে।
