জাপানের সাগরতীরবর্তী শহর আতামিতে প্রবল বৃষ্টির পর ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন এবং ৮০ জন নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার দুই দিন পর সোমবার হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া ঘর ও কাদার নিচে চাপা পড়া রাস্তাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল, সময় ও খারাপ আবহাওয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে তাদের; জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শনিবার আতামিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়, এরই এক পর্যায়ে ভূমিধস হয়; প্রবল কাদা ও পাথরের স্রোত ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে রাস্তা ভেঙে এগিয়ে যায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত এনএইচকে টেলিভিশনকে এক ব্যক্তি বলেন, “আমার মা এখনও নিখোঁজ। এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে পারে তা কল্পনাও করিনি।”
৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, তার অপর পাশের ঘরটি কাদার স্রোতে ভেসে গেছে আর সেখানে যে দম্পতি থাকতো তারা নিখোঁজ রয়েছেন।
“এটি নরক,” বলেন তিনি।
শনিবার ঘটনার পর থেকে রোববার পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ২০ জন বলা হয়েছিল, কিন্তু সোমবার কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ফোন কলের সূত্রধরে নিখোঁজদের সংখ্যা নির্ধারণ বাদ দিয়ে বাসিন্দাদের তালিকা ধরে অনুসন্ধান শুরু করার পরই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ওনুমা।
তবে সোমবার দুপুরের মধ্যে নিখোঁজদের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রায় ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বার্তা সংস্থা কিয়োদো জানিয়েছে।
রাজধানী টোকিও থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে ৩৬ হাজার বাসিন্দার শহর আতামিতে শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ের ধাপে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রিজোর্ট ধসে সাগরের দিকে চলে যায়। পানি, কাদা ও আবর্জনার স্রোত প্রবাহিত হয়ে একটি নদীর ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার গিয়ে সাগরে পরে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে ১৩০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব কাতসুনোবু কাতো আতামির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ওই এলাকার মাটি আলগা হয়ে আছে ফলে অল্প বৃষ্টিও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
মুখপাত্র ওনুমা জানিয়েছেন, আতামিতে এখন বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় ফের ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়ছে।
