Loading...

জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বেজার সঙ্গে চুক্তি

| Updated: March 19, 2022 09:24:11


ফাইল ফটো/ জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ফাইল ফটো/ জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক হাজার একর জমির ওপর জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজার সঙ্গে চুক্তি করেছে নবগঠিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড-বিএসইজেড। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই উন্নয়ন চুক্তি হয়। বেজার নির্বাহী সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল আজিম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোমনিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারো কাওয়াচি চুক্তিতে সই করেন।

প্রথমবারের মত দেশে জিটুজি ভিত্তিতে (দুই দেশের সরকারের অংশীদারিত্বে) অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ২০১৯ সালে জাপানের সুমিতোমো কর্পোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি করে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড নামে ওই নতুন কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়।

এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ, উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমোদন নেওয়াসহ সব ধরনের কাজ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়েছে। এ ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার রূপরেখা দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনও পেয়েছে। এখন বেজার সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বৃহত্তর উন্নয়ন কার্যক্রমের সূচনা হল।

বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে এ বছর। জাপান বরাবরই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ ও বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সে সম্পর্কের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এ ধরনের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় যুক্ত হতে পেরেছে দুই দেশ।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো, জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইয়োহো হায়াকাওয়া এবং বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের অংশীদার সুমিতোমো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার এইস্কে নাকানিশি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১০০০ একর জমির ওপর জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে উঠছে। প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০০ একরের ভূমি উন্নয়নের কাজ সমাপ্তির পথে।

সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈচিত্র্যময় শিল্প স্থাপনের সুবিধা সম্প্রসারণ, জাপানি এবং স্থানীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বেজা জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৯৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া আরো দুই হাজার ৫৮২ কোটি টাকায় এ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য এফডিআইপিপি বা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন প্রজেক্ট ২০১৯ সালের ৫ মার্চ একনেকে অনুমোদিত হয়। ওই প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসব কর্মকান্ড শেষ করে ২০২২ সালের মধ্যে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বেজা বলছে, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়াও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, “জিটুজি ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।”

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, “এ উদ্যোগ এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনামাত্র। একটি পরিকল্পিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে।”

বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে পেরে জাপান সরকার অত্যন্ত আনন্দিত। জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে।”

 

Share if you like

Filter By Topic