স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়; বিউগলে বাজানো হয় সুর।
শেখ হাসিনা পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি সমাধি কমপ্লেক্সের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মাহবুবউল-আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
পরে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে টু্ঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানান।
বেঁচে থাকলে বৃহস্পতিবার ১০২ বছর পূর্ণ হত বাংলাদেশের জাতির পিতার। বৃহস্পতিবার তার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হচ্ছে দিনটি।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাধারণ এক পরিবারে। ছোটবেলাতেই রাজনীতি সচেতন ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় বঙ্গবন্ধু তার সহকর্মীদের নিয়ে ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠন করেন। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয়-দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে ৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
বঙ্গবন্ধুর সাহসী, দৃঢ়চেতা, আপোষহীন নেতৃত্ব ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হয়ে জেগে ওঠে শত বছরের নির্যাতিত-নিপীড়িত পরাধীন বাঙালি জাতি। যার ফলে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় বাঙালির জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরেই শুরু হয়েছে, এরপর দিনভর থাকছে নানা আয়োজন। ‘টুঙ্গিপাড়া হৃদয়ে পিতৃভূমি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচি।
শুক্রবার বেলা আড়ইটায় টুঙ্গিপাড়ায় আলোচনা সভা করবে আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
