পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে হলিউড তারকা জনি ডেপের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে তার সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড ‘মানহানি ঘটিয়েছেন’ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি আদালত। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ভার্জিনিয়ার সাত জুরির এই আদালত বুধবার তাদের সিদ্ধান্তে বলেছে, মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ডেপকে এক কোটি তিন লাখ ডলার দিতে হবে হার্ডকে।
অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে এ মামলার রায় হার্ডের পক্ষেও গেছে। আদালত বলেছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে হার্ড পাবেন ২০ লাখ ডলার।
সাবেক এই তারকা দম্পতির দুই বছরের দাম্পত্য কতটা তিক্ততার জন্ম দিয়েছিল, তার বিস্তৃত বিবরণ পুরো বিশ্বের সামনে উঠে এসেছে এ মামলার ছয় সপ্তাহের শুনানিতে।
৩৬ বছর বয়সী ‘অ্যাকুয়াম্যান’ তারকা হার্ড মামলার শুনানিতে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, কীভাবে তাকে সাবেক স্বামী জনি ডেপের ‘শারীরিক নির্যাতন’ সইতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি প্রতি মুহূর্তে হয়রানির শিকার হয়েছি, নিগৃহের শিকার হয়েছি, হুমকির মুখে পড়েছি।”
অন্যদিকে ৫৮ বছর বয়সী ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবিয়ান’ তারকা জনি ডেপ সেই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে দাবি করেন, তিনি কখনো অ্যাম্বার হার্ড বা কোনো নারীকে আঘাত করেননি বরং তার সাবেক স্ত্রীই তাদের সম্পর্কের অনৈতিক সুযোগ নিয়েছে।
ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে ২০১৫ সালে ঘর বেঁধেছিলেন এই দুই হলিউড তারকা। কিন্তু দুই বছরের মধ্যে ঘটে তাদের বিচ্ছেদ।
এরপর ১৯১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে এক কলামে নিজেকে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হিসেবে তুলে ধরেন অ্যাম্বার হার্ড।
তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা করেন ডেপ। তার পাল্টায় ১০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে পাল্টা মামলা করেন হার্ড।
সেই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আদালতে বিচার শুরু হলে দুজনের দাম্পত্যের এমন অনেক বিষয় প্রকাশ্যে আসে, যা হতাশ করে দুই তারকার ভক্তকূলকে।
