প্রথম তিন বছর ছোট আকারে ব্যবসা চালিয়ে মোটা লাভের আশায় রীতিমত প্রেস বসিয়ে জাল স্ট্যাম্প কারবার জমিয়েছিল একটি চক্র। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
চক্রটির চার সদস্যকে বিপুল পরিমাণ জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফিসহ গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আবু ইউসুফ ওরফে পারভেজ ওরফে রানা, মো. আতিয়ার রহমান সবুজ, মো. নাসির উদ্দিন ও মো. নুরুল ইসলাম ওরফে সোহেল।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইল কলেজ রোডের একটি ভবনের নিচতলার ছাপাখানা থেকে এসব জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি উদ্ধার করা হয়। জাল স্ট্যাম্প বিক্রির তিন কোটি ৬০ লাখ টাকাও পাওয়া গেছে সেখানে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে।
আবু ইউসুফ ও আতিয়ার চক্রটির মূলহোতা জানিয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, “চক্রটি ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কম্পিউটার এবং কালার প্রিন্টার ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ২০১৯ সালে মাতুয়াইলে একটি গোপন ছাপাখানা বসিয়ে বড় পরিসরে ব্যবসা শুরু করে।
“চক্রটি প্রথম পর্যায়ে সুদক্ষ অপারেটর দ্বারা গোপন ছাপাখানায় বিভিন্ন মূল্যমানের জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ছাপায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছাপানো স্ট্যাম্পগুলো চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে পাইকারি বিক্রেতা ভেন্ডরদের কাছে পৌঁছানো হয়। এরপর খুচরা বিক্রেতার হাত ঘুরে তা ব্যবহারকারীর কাছে যায়।”
চক্রটি গার্মেন্ট, কারাখানা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন পোস্ট অফিস, আদালত, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাসপাতালে এসব জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করে।
গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজ আক্তার বলেন, “তাদের জাল স্ট্যাম্পগুলো এতটাই নিখুঁত যে খালি চোখে বোঝার কোনো উপায় নেই। কাগজগুলো হুবহু একই রকম।
“আসল স্ট্যাম্প মেশিনের নীচে ধরলে কালো কালো রেখা দৃশ্যমান হয় কিন্তু জাল স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এছাড়াও আসল স্ট্যাম্পের 'জিওবি' লেখাটি চকচক করে কিন্তু জাল স্ট্যাম্পে সেটা থাকে না।”
