সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠালে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে ‘গদিচ্যুত’ করার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে শনিবার দলের গণঅনশন কর্মসূচিতে তিনি এই হুমকি দেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া এখন বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে রয়েছেন। তাকে বিদেশে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও সরকার বলেছে, আইনগতভাবে তার সুযোগ নেই।
ফখরুল বলেন, “এই সরকারকে খুব পরিষ্কার ভাষায় আমরা এই গণঅনশন থেকে বলে দিতে চাই যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।
“তা না হলে এবার যে আন্দোলন শুরু হলো, গণঅনশনের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন আপনাকে গদিচ্যুত করবে।”
খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে দাবিতে আগামী সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণাও করেন বিএনপি মহাসচিব।
ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সমাবেশে আমরা আবারও এই দাবি নিয়ে সামনে আসব। তারপর যদি না হয়, আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
গণঅনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তিনি আজকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে অবস্থান করছেন।
“আমরা ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি বার বার, বিদেশে ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
শারীরিক এসব সমস্যার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “তার যেসব জটিলতা আছে সেই জটিলতাগুলো বিদেশে আরও অ্যাডভান্স সেন্টারে টিট্রমেন্ট দেওয়া না হলে তাকে সুস্থ করা যাবে না।
“তার পরিবার থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল তাকে বিদেশে ট্রিটমেন্ট করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। তারা সেই সুযোগ দেয়নি। উপরন্তু পার্লামেন্টে সংসদ নেত্রী এমন ভাষায় কথা বলেছেন, যে ভাষা কোনো মতে গ্রহণযোগ্য নয়।”
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে গত বছরের মার্চে তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয় সরকার। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তাকে ঢাকায় তার বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে, তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
এর আগেও কয়েকবার তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে তার পরিবার, তবে ওই শর্তের যুক্তি দেখিয়ে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সর্বশেষ আবেদনটি জমা দেন গত ১১ নভেম্বর।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপরাসন আবার জেলে গিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে।
গণঅনশন কর্মসূচিতে এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মিথ্যাচার করেছেন আইনমন্ত্রী। ৪০১ ধারায় এই সরকারের সম্পূর্ণ অধিকার আছে এবং এটা তাদের দায়িত্ব। যে কোনো নির্দেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে।”
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা আমাদের জীবন-মরণের সমস্যা, আমাদের অধিকারের সমস্যা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশের মাটির সাথে একেবারে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছেন।
“মা ও মাটি বলতে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝি। নেত্রীকে অবশ্যই আমাদের মুক্ত করতে হবে। সেজন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা প্রস্তুত আছি।
“আসুন আমরা সবাই মিলে শপথ গ্রহণ করি- দেশনেত্রীর মুক্তি এবং তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ করার আগ পর্যন্ত আমরা কোনোদিন ঘরে ফিরে যাবো না।”
সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই গণঅনশন কর্মসূচিতে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁ থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত সড়কের এক দিকের ফুটপাতে নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেয়।
খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে গণঅনশনে আসেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করে খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরেও একযোগে এই অনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
