Loading...

গালওয়ানে ‘পিছু হটার সময়’ নদীতে ডুবে মরে ৩৮ চীনা সৈন্য

| Updated: February 04, 2022 18:59:28


ছবি এনডিটিভি থেকে নেওয়া ছবি এনডিটিভি থেকে নেওয়া

লাদাখের গালওয়ানে ২০২০ সালের জুনে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আতঙ্কিত চীনা সৈন্যরা পিছু হটে এবং সেসময় নদীতে ডুবে তাদের অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদপত্র। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গবেষকদের একটি দল বিভিন্ন তথ্য জোড়া লাগিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় বলেও জানিয়েছে তারা।

‘দ্য ক্ল্যাক্সন’ নামের ওই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চীন গালওয়ানের ওই সংঘর্ষে তাদের ৪ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানালেও সেদিন তাদের ৪২ সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে পিছু হটার সময় পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) অন্তত ৩৮ জন নদীতে ভেসে যায়।

অস্ট্রেলীয় এ সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক অ্যান্থনি ক্লান এনডিটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চীনারা বাফার জোন থেকে তাদের শিবির গুটিয়েছে কিনা ভারতীয় সৈন্যরা তা নিশ্চিত হতে গেলে বাধে সংঘর্ষ।

“নদী পেরিয়ে অন্যপাশে যাওয়ার সময় চীনা সেনারা ভেসে যায় বলে তথ্যপ্রমাণ বলছে,” বলেছেন তিনি।

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে এসব তথ্য মিলেছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়, বলেন ক্লান।

‘দ্য ক্ল্যাক্সনের’ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চীনা শিবির উচ্ছেদের চেষ্টায় ওই বছরের ১৫ জুন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সন্তোষ বাবু তার দল নিয়ে বিরোধপূর্ণ এলাকায় যান, সেখানে তখন পিএলএ-র কর্নেল চি ফাবাও প্রায় দেড়শ সৈন্য নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

“দুই পক্ষের মধ্যে আগে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা না করে চি তার সেনাদের যুদ্ধসাজে সজ্জিত হতে বলেন,” বলা হয়েছে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

তাদের ভাষ্যমতে, কর্নেল চি ভারতীয় সেনাদের ওপর আক্রমণ করেন; পিএলএ-র দুই কর্মকর্তা ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার চেন হংজুন ও সৈনিক চেন জিয়াংরং ভারতীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে লোহার পাইপ, লাঠি ও পাথর নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান।

এক ভারতীয় সৈন্য কর্নেল ফাবাওর মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে যান। সংঘর্ষের কিছু সময়ের মধ্যেই ভারতীয় সেনারা হংজুন ও জিয়াংরংকেও ‘নীরব করে দেয়’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গবেষকদের ‘গালওয়ান ডিকোডেড’ শিরোনামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানাচ্ছে ‘দ্য ক্ল্যাক্সন’।

“কর্নেল ফাবাও এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর, মেজর চেন হংজুন, জুনিয়র সার্জেন্ট জিয়াও সিয়ান ও সৈনিক চেন জিয়াংরংয়ের মৃতদেহ দেখার পর পিএলএ সেনারা আতঙ্কিত হয়ে পিছু হটা শুরু করে।

“সেসময় হেনানের ইয়ানচেং কাউন্টির লুওহে শহরের বাসিন্দা ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ওয়াং ঝুয়োরান তার সাথী মা মিংকে সঙ্গে নিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সঙ্গীদের পথ দেখিয়ে বিপদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।

“পিএলএ সেনারা এমনকী পানিতে পরার জন্য উপযুক্ত প্যান্ট পরারও সময় পাননি। তারা সিদ্ধান্ত নেন ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ওয়াংয়ের দেখানো পথে বরফপানি পাড়ি দেওয়ার। সেসময় হঠাৎ করেই নদী জেগে ওঠে, আহত চীনা সেনারা পিছলে পড়েন এবং স্রোতে ভেসে যান,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গবেষকদের উদ্ধৃত করে জানায় অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমটি।

গালওয়ানের ওই সংঘর্ষে ভারতের কর্নেল সন্তোষ বাবুসহ ২০ সেনা নিহত হয় বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।

চীন পরে জানায়, তাদের জুনিয়র সার্জেন্ট ওয়াং ঝুয়োরানেরই কেবল পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে।

মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া কমান্ডার চি ফাবাও ওই সংঘর্ষের পর থেকেই চীনে বীরের মর্যাদা পেয়ে আসছেন; শুক্রবার থেকে বেইজিংয়ে যে শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হচ্ছে, তার এক হাজার ২০০ মশালবাহকের একজন হিসেবেও তাকে স্থান দেওয়া হয়।

Share if you like

Filter By Topic