প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অসহিষ্ণু’ মনোভাব দেশে গণতন্ত্রকে ‘অন্তিম অবস্থায়’ নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
তার ভাষায়, নির্বাচন এখন ‘আইসিইউতে’ ও গণতন্ত্র ‘লাইফ সাপোর্টে’। আর এ সঙ্কটের অবসান ঘটতে পারে সব দলের সমঝোতায়।
মেয়াদ ঘনিয়ে আসা নির্বাচন কমিশনের এই কমিশনার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংতার প্রেক্ষাপটে রোববার বিকালে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে হাজির হন সাংবাদিকদের সামনে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সহকর্মীদের সঙ্গে ভিন্নমত পোসণ করে আলোচিত মাহবুব তালুকদার বরাবরের মতোই লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান, যার শিরোনাম তিনি দেন- ‘দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে আমার কথা’।
কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। শেষ সময়ে এসে ইউপি নির্বাচনে গোলযোগ-সহিংসতা নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে তারা।
মাহবুব তালুকদার বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ যতই ফুরিয়ে আসছে, নির্বাচন ব্যবস্থা ও অবস্থা দেখে ততই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছি। আজও রূপকার্থে কিছু কথা বলতে চাই। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন এখন আইসিইউতে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র এখন ‘লাইফ সাপোর্টে।”
নিজের কথার ব্যাখ্যায় এই কথাসাহিত্যিক বলেন, “দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাব গণতন্ত্রকে অন্তিম অবস্থায় নিয়ে গেছে।
“খেলায় যেমন পক্ষ-বিপক্ষের প্রয়োজন হয়, তেমনি একপক্ষীয় কোনো গণতন্ত্র হয় না। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে আমরা ‘লাইফসাপোর্ট’ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
“আমি আবারও পুনরাবৃত্তি করে বলতে চাই, এই সঙ্কট নিরসনে সকল দলের সমঝোতা অপরিহার্য,” বলেন তিনি।
ইসি নিয়োগে দ্রুত আইন করার পরামর্শ দেন মাহবুব তালুকদার।
আইন না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ নিয়ে গত দু’বার ইসি গঠন করেন। মাহবুব তালুকদার ও তার সহকর্মীরাও ২০১৭ সালে একইভাবে নিয়োগ পান।
মাহবুব তালুকদার বলেন, “সংবিধানের বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও সুদীর্ঘ ৫০ বছরে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করা হয়নি। নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের জন্য এই আইন প্রণয়ন অবধারিত হলেও তা যথেষ্ট নয়। এতে নিরপেক্ষভাবে সব রাজনৈতিক দলের স্বার্থ সংরক্ষণ করা আবশ্যক এবং তা সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়।”
সবার মতামত নিয়ে আইন না হলে তার পরিণতিও খারাপ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
“একপক্ষীয় আইন করে কোনো লাভ হবে না। একপক্ষীয় আইন কেবল একদলীয় শাসনের পথ উন্মুক্ত করে। বিষয়টির যত তাড়াতাড়ি ফয়সালা হয় ততই মঙ্গল। নইলে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের আশঙ্কা আছে।”
এদিকে মাহবুব তালুকদার নিজের মত প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবে ইসি। এতে সিইসি কে এম নূরুল হুদাসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা থাকবেন।
