খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে রেকর্ড ৪৬ জন মারা গেছে। এই সময়ে এক হাজার ৩০৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
রোববার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এই তথ্য জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার এই বিভাগে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
রাশেদা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনা এবং কুষ্টিয়ায় ১৫ জন করে, যশোরে সাতজন, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গায় দুজন করে এবং বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে একজন করে মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৬০ হাজার ৫৬৪ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ২১৪ জন। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ হাজার ২১৮ জন।
খুলনায় এত বেশি করোনা সংক্রমণের কারণ জানতে চাইলে রাশেদা সুলতানা বলেন, করোনা সব জায়গাই তো বেড়েছে; সে হিসাবে খুলনাতেও বেড়েছে। তবে মৃত্যুর হার খুলনায় একটু বেশি।
তিনি বলেন, সাধারণ সর্দি জ্বর ভেবে একটু দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসছেন রোগীরা। এখানে যে ভ্যারিয়েন্ট তা আগে থেকে বোঝাও যাচ্ছে না। রোগীরাও বুঝতে পারেন না তিনি কতটা অসুস্থ। বিশেষ করে গ্রামের মানুষরা করোনা হাসপাতালে একটু আগে আসলে অবস্থা বুঝে চিকিৎসা করা গেলে সেভ করা সম্ভব হবে।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় খুলনা জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জেলার রয়েছেন ১০ জন। এ সময়ে ৪৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা মোট নমুনা পরীক্ষার ৩৪ শতাংশ।
ঊষা বলেন, গত বছরও এ সময়ে করোনা বেড়েছিল; এ বছরও ঠিক সেই সময়ে বেড়েছে। এবার বেশি হওয়ার কারণ ভ্যারিয়েন্টের তীব্রতা। করোনায় আক্রান্তদের যে সংখ্যাটা আসছে এর বাইরেও প্রতিটি পরিবারে কারও না কারও করোনার লক্ষণ রয়েছে। সর্দি জ্বরের সিজন হওয়ায় অনেকে এটা অবহেলা করেছেন। এর কারণে করোনা বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে যারা করোনায় মারা যাচ্ছেন তারা অধিকাংশ ৬০-৭০ বছর বয়সের। এদের যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন আর আইসিইউতে নিয়েও কিছু করার থাকে না।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, করোনা সংক্রামক রোগ। এর প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনতে খুলনায় দফায় দফায় বিধিনিষেধ ও লকডাউন দিয়েও সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও মাস্ক পরছেন না অনেকে।