গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পাথুড়িয়া খালের মুখে সরকার বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিল; যার ওপর নির্ভরশীল কয়েক গ্রামের মানুষ; কিন্তু শেষ হয়ে যাচ্ছে ধানের চারা রোপণের সময়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আসন্ন বোরো মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই উপজেলার তারাইল বিলের আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফইজুর রহমান বলছেন, বাঁধটি কৃষকের জমি রক্ষার জন্য নোনা ঠেকাচ্ছে। একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার ব্যবস্থাও হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাথুড়িয়া খালের মুখে বাঁধ দেওয়ায় তারাইল বিলের পানি শৈলদহ নদীতে নামতে পারছে না। ওদিকে আসন্ন বোরো মৌসুমে চারা রোপণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিলের পাশের তারাইল, সোনাখালী, ফুলবাড়ি ও চর গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বিলের জমিতে বছরে একবার বোরো ধান চাষ করে তাই দিয়ে সারা বছরের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটায়।
তারাইল গ্রামের কৃষক রঞ্জন বাইন (৫৬) বলেন, তারাইল-পাচুড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের ৩ নম্বর পোল্ডারের মাধ্যমে শৈলদহ নদী থেকে পাথুরিয়া খাল দিয়ে তারাইল বিলের পানি ওঠা-নামা করে। বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ৩ নম্বর পোল্ডার ভাঙনের মুখে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাথুরিয়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করে। বাঁধের কারণে শুকনো মৌসুমেও বিলের পানি খাল দিয়ে নদীতে নামতে পারছে না।
“তারাইল, সোনাখালী, ফুলবাড়ি, চর গোপালপুর গ্রামের দুই হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় তিন হাজার কৃষক জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। আমরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি। আমার দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।”
বিলটি বছরে মাত্র একবারই জাগে এবং তখন বোরো হয় বলে এলাকাবাসী জানান।
সোনাখালী গ্রামের কৃষক জমির খান (৬০) বলেন, এই বিলের ধান দিয়ে তাদের সারা বছর চলতে হয়। এ বছর জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ শুরু করা যাচ্ছে না।
“বোরো না হলে সারা বছর আমরা খাব কী?”
”প্রতি বছর পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহে পানি নেমে যায়। তারপর আমরা চারা রোপণ করি। এ বছর পৌষ মাস চলে গেছে। মাঘও বিদায়ের পথে। কিন্তু বিলের পানি না নামায় ধান চাষ নিয়ে আমরা মহা অনিশ্চয়তায় পড়েছি,” বলেন তারাইল গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী নেপাল মজুমদার।
একই গ্রামের কৃষক সুকলাল মণ্ডলের (৫০) প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে তারা এখনও চারা রোপণ করতে পারবেন।
“সরকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের রক্ষা করবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।”
প্রকৌশলী মো. ফইজুর রহমান এ বছরের জন্য সমস্যা সমাধানের উপায় বলতে পারেননি।
তিনি বলেন, বাঁধ খুলে দিলে লবণপানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি করবে।
“কৃষকের সুবিধার জন্যই সেচ ও পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই উত্তর গোপালগঞ্জ পানি ব্যবস্থাপনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি স্কিম ধরা হয়েছে। যে প্রকল্প আগে পাস হবে, সেই প্রকল্প দিয়েই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেওয়া হবে।”
