খাতুনগঞ্জে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জিরার দাম এক সপ্তাহে বেড়েছে ৩ থেকে ২০ শতাংশ


FE Team | Published: May 20, 2022 20:35:41 | Updated: May 21, 2022 17:14:44


খাতুনগঞ্জে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জিরার দাম এক সপ্তাহে বেড়েছে ৩ থেকে ২০ শতাংশ

ভোজ্যতেলের পর এবার বিভিন্ন ধরনের মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরায়।

দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও জিরার মত মসলার দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পাড়ার দোকানে এসব মসলার দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, জাহাজীকরণে দেরি, কন্টেইনারের ভাড়া বৃদ্ধি এবং আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন হার সংরক্ষণের নির্দেশনার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দেড় মাস পর কোরবানির ঈদে মসলার বাজারে এর প্রভাব পড়বে।

খাতুনগঞ্জে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারিতে এলাচের কেজি এখন এক হাজার ৪৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে এক হাজার ২৮০ টাকা ছিল। এই হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ১৮০ টাকা।

পাইকারিতে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৯৪ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ৩৮৫ থেকে ৩৮৭ টাকা ছিল।

আগের সপ্তাহে ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লবঙ্গ এখন ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি। আর মানভেদে ২৮৫ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া দারুচিনির দামও এক সপ্তাহে কেজিতে আট থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০৫ থেকে ৩৭৭ টাকা হয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এসব মসলা মূলত আমদানি হয় ভারত, আফগানিস্তান, গুয়েতামালা, মাদাগাসকার, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ইরান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ থেকে।

এরমধ্যে ভারত থেকে মসলা আসে সড়ক পথে। আর অন্যান্য দেশ থেকে আনা হয় জাহাজে করে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসখানেক আগেও ডলারের দর ৮৬ থেকে ৮৭ টাকা ধরে এলসি খোলা হত, এখন তা খুলতে হচ্ছে ৯৬ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক গুলিস্তান ট্রেডার্সের মালিক আবদুর রাজ্জাক বলেন, মসলার বাজার এখন কিছুটা বাড়তি। ডলারের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বাড়তি দামের কারণে ক্রয়মূল্যও বেশি পড়ছে।

রোজার ঈদের সময় মসলার বাজার একটু পড়তির দিকে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় ব্যবসায়ীরা লোকসানে মসলা বিক্রি করেছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলসি মার্জিনের হার নতুন করে নির্ধারণ করেছে। তাতে ডলারের হিসেবে আগের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে আমাদের এলসি খুলতে হচ্ছে। পণ্য আসার পর বাকি টাকা পরিশোধেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে।

মসলার দাম সামনে আরও বাড়বে বলে আভাস দেন আমদানিকারক আবদুর রাজ্জাক।

পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভারে খুচরা বাজারেও বিভিন্ন মসলার দাম বেড়ে যওয়ার কথা বললেন চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের দোকানিরা।

তাদের ভাষ্য, মসলা বাজারের দাম নির্ভর করে খাতুনগঞ্জের পাইকারদের ওপর। সেখানে দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবে খুচরায় দাম বেড়ে যায়।

এ বাজারের মসলা বিক্রেতা রণ দাশ বলেন, বেশ কিছুদিন মসলার দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে রোজার ঈদের পর দাম বাড়তির দিকে।

বৃহস্পতিবার রেয়াজউদ্দিন বাজারে জিরা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪২০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ খানেক আগেও দাম ছিল ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকা।

এলাচ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, যা রোজায় ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা ছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে ১ হাজার ১০০ টাকার লবঙ্গ বিক্রি হলেও, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বেশি দরে।

দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা/কেজি দরে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও বিক্রি হয়েছিল ৩৬০ টাকায়।

Share if you like