কোরবানির ঈদের সড়কে ‘৭ বছরের সর্বোচ্চ’ মৃত্যু


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: July 19, 2022 14:56:50 | Updated: July 19, 2022 19:20:31


ফাইল ছবি

মহামারীর দুই বছর পর এবারের কোরবানির ঈদের ছুটিতে ৩১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯৮ জনের প্রাণ গেছে, যা গত সাত বছরের কোরবানির ঈদের মৌসুমের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সমিতির পক্ষ থেকে এবারের ঈদের ছুটির দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

সংবাদপত্রে আসা তথ্য সঙ্কলিত করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে এসব সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭৭৪ জন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে রেলপথে ২৫টি দুঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু দুইজন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১০টি দুর্ঘটনায় ১৭ জনের প্রাণহানি এবং ১৫ জন আহত তিনজন নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে।

অর্থাৎ- সড়ক, রেল নৌপথে মোট ৩৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৪০ জন নিহত ৭৯১ জন আহত হয়েছেন।

দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয়, আঞ্চলিক দৈনিক অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে পরিসংখ্যান তৈরি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

ঈদুল আজহা: সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র

সাল

নিহত

আহত

২০২২

৩৯৮

৭৭৪

২০২১

২৭৩

৪৪৭

২০২০

২৪২

৩৩১

২০১৯

২২৪

৮৬৬

২০১৮

২৫৯

৯৬০

২০১৭

২৫৪

৬৯৬

২০১৬

২৪৮

১০৫৬

সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বছর ঈদুল আজহায় লকডাউনের কারণে যাতায়াত সীমিত ছিল, কিন্তু এবার সেই বিধিনিষেধ না থাকায় মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।

তাদের হিসাবে, এবারের ঈদে ঢাকা ছেড়েছে কোটি ২০ লাখ মানুষ। আরও কোটি মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বরাবরের মত এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩১ জনের প্রাণ গেছে, আহত হয়েছেন ৬৮ জন। এই চিত্র মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, আর নিহতের ৩২ দশমিক ৯১ শতাংশ।

দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, সড়কে দুর্ঘটনায় পড়া মোট যানবাহনের ২৯ দশমিক শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ১৮ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কভার্ডভ্যান-লরি, দশমিক ৬২ শতাংশ প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস, দশমিক ৯৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ অটোরিকশা, দশমিক ৩৬ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল এবং ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাস।

সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৯১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৬ দশমিক ৭০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। ছাড়া মোট সড়ক দুর্ঘটনার দশমিক ৭০ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে হয়েছে।

এর মধ্যে ২৩ দশমিক ১৯ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৫০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ঘটনায় পথচারীকে গাড়ি চাপা, ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, দশমিক ৮৯ শতাংশ অন্যান্য না জানা কারণে

এবারের ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় গণপরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। পাশাপাশি নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন রুটে চার ঘণ্টার যাত্রা ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টাও লেগেছে বলে তাদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

সংগঠনটি বলেছে, যাত্রী হয়রানি ভাড়া নৈরাজ্যের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে ছিল। পাশাপাশি ট্রাক, কভার্ডভ্যান, পিকআপ, মুরগীৰাহী ভ্যানেও যাত্রী যাতায়াত করতে দেখা গেছে। রেলপতে ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয়, টিকেট কালোবাজারী, টিকেট পেতে বিড়ম্বনাসহ নানান ভোগান্তি ছিল।

নৌপথের চিত্র তুলে ধরে তারা বলেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংকটে দেশের বিভিন্ন নৌপথে ভাড়া কমানো হলেও ঈদযাত্রা টিকিট কালোবাজারী ভাড়া নৈরাজ্য আগের বছরের মতোই ছিল।

দুর্ঘটনার কারণ

যাত্রী কল্যাণ সমিতি ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার পেছনে কিছু কারণও চিহ্নিত করেছে।

>> যানবাহনের বেপরোয়া গতি, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং সড়কবাতি না থাকায় রাতে জাতীয় সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালনা।

>> জাতীয়, আঞ্চলিক ফিডার রোডে টার্নিং চিহ্ন না থাকা।

>> মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।

>> উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।

>> মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটোরিকশার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া।

সুপারিশ

দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কিছু সুপারিশ করেছে।

>> জাতীয় আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে অবাধে যানবহন চলাচলের সুবিধার্থে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।

>> দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, যানবাহনের ত্রুটি মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া।

>> ধীরগতির যান দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা।

>> সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা।

>> সড়কে রোড সাইন রোড মার্কিং স্থাপন করা।

>> সড়ক পরিবহন আইন যথাযতভাবে বাস্তবায়ন করা। ট্রাফিক আইনের অপপ্রয়োগ রোধ করা।

>> গণপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআারটিএর অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি।

>> মানসম্মত সড়ক নির্মাণ মেরামত নিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুল নেওয়াজ সংবাদ সম্মেলনেউপস্থিত ছিলেন।

Share if you like