Loading...

কোভিড ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘অসন্তোষ’ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে


কোভিড ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘অসন্তোষ’ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে

দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদানসহ কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘অসন্তুষ্টির’ কথা এসেছে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

অপর্যাপ্ত টিকার সংগ্রহ নিয়ে গণটিকার আয়োজন, কঠোর লকডাউন চলাকালে হঠাৎ করে তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া, শহরে ও গ্রামাঞ্চলে ভিন্ন ধরনের টিকা কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা বিষয়ে ‘অব্যস্থাপনার’ কথা সভায় জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকা ব্যবস্থাপনা, করোনার তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা, বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা নিয়ে কমিটির সদস্যদের অনেকে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

“দেখবেন, এখন সবাই কোভিড বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এখানে একটি জাতীয় পরামর্শক কমিটি আছে। কিন্তু এর বাইরেও সরকারের অনেকে করোনাভাইস, টিকা এসব নিয়ে কথা বলছে। যার বক্তব্য দেওয়া উচিত, তিনি বাদে অন্যরা বক্তব্য দেন। এসব কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।”

ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে অতিকথনের কারণে সরকারের সফলতা ম্লান হচ্ছে। কমিটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে বলেছে। এ বিষয়গুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। সেটাই কমিটিতে সদস্যরা আলোচনা করেছেন।”

টিকার সংখ্যা নিয়েও বৈঠকে কথা হয়েছে জানিয়ে মানিক বলেন, “কত আসছে, কত দেওয়া হচ্ছে, কত মানুষকে দেওয়া যাবে- এগুলো নিয়ে সুনির্দষ্ট চিন্তা থাকতে হবে। সেগুলি নেই বলে কমিটির সদস্যদের মনে হয়েছে।”

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণ টিকাদান শুরু হয়।

কিন্তু সেরাম ইনস্টিটিউট দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে টিকার সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

তখন সরকার অন্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করে। চীন থেকে জরুরিভাবে সিনোফার্মের টিকা কেনার চুক্তি করা হয়। এখন সিনোফার্মের টিকার পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার, মডার্না ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

কিছু টিকা হাতে পাওয়ার পর মহামারীর বিরুদ্ধে সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে গত ৭ অগাস্ট থেকে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে ছয় দিনের গণটিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে সরকার।

তাতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিললেও সরবরাহ কম থাকায় অনেককে টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনারও অভিযোগ আসে।

 

 

Share if you like

Filter By Topic