Loading...

কেন বর্তমানই সুন্দর

| Updated: May 27, 2021 19:39:06


ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

মানুষের দুটো মহামারি তুল্য অসুখের কথা যদি বলি, তবে তার একটিঅতীত নিয়ে ভাবা, এবং আজকের কোনো কাজকে আজ না করে ‘কাল করব, ‘কাল করা যাবেএই সূত্রে নিজের ‘কালডেকে আনা। অথচ, একটু বেশি সজাগ থাকলে, একটু বেশি বর্তমানের তাৎপর্য বুঝতে পারলে, আমরা কত সহজেই না নিজেদের জীবনকে রাঙিয়ে তুলতে পারি! আজকের আলোচনায় তাই বর্তমানকে শেকড় ধরে, জীবনকে সুন্দর কায়দায় এগিয়ে নেবার কিছু পথ সম্পর্কে জানব।

চোখ বন্ধ করে যদি প্রত্যেকেই ভাবি, আমরা ঠিক কখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ বোধ করি? কখন আমরা সবাই যেকোনো সামান্যতম উপভোগকে খুব বিশাল করে ভাবতে পারি? খুব সম্ভবত, আমরা যখন সুস্থ থাকি, ভেতর এবং বাইর উভয় দিক থেকে, তখন আমরা সত্যিই যেকোনো ব্যাপারকে খুব সহজে মেনে নিতে পারি। তখন আমরা পারি, সামান্যতম অর্জনেও উচ্ছ্বাসের পতাকাকে পতপত করে ওড়াতে। তাই, ঠিক এখন থেকে, সবকিছুর উর্ধ্বে, নিজেদের শারীরিক উন্নয়ন এবং মানসিক সুস্থতাকে ঠাঁই দেয়া দরকার।

প্রায় সব মানুষেরই আলাদা আলাদা পছন্দ-অপছন্দের কাজ থাকে। কেউ পছন্দের কাজ নিয়ে ভালো থাকে,আবার কেউ অপছন্দে হাঁসফাঁস করে রোজ। জীবনের তাগিদে হয়তো আমাদের অনেক কিছুই করা হয়ে ওঠে না। হয়তো এই মুহূর্তে আমাদের এমন কোনো কাজ করতে হচ্ছে, যা আমরা কখনোই করতে চাইনি।

তবু, বাস্তবতার গ্যাঁড়াকলে কি আমরা চাইলেই পারি না, অপছন্দের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে নিজের পছন্দের গিটারে টুংটাং আওয়াজে দু'টো লাইন গান ধরতে? অথবা, দিনের সব গ্লানিকে একপাশে সরিয়ে, আগামীকালের চিন্তায় ক্রমশ উদ্বিগ্ন না হয়ে একটি সুন্দর সন্ধ্যা কাটাতে? বর্তমানকে বিষিয়ে না তুলে, যতটুকু সময় হাতের নাগালে থাকে, ঠিক ততটুকুই ভালোবাসার ইচ্ছেতে খরচ করা গেলে, আমাদের প্রতিটি ‘আজদারুণ হতে পারে।

হতে পারে, কাছের মানুষটির একটি ব্যাপার আপনার মোটেও ভালো লাগছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কথা বলবেন ভাবছেন, কিন্তু আজও বলা হয়ে ওঠেনি। আর এই টালবাহানার ফলে হয়তো দিনদিন আপনার সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। এমতাবস্থায় কী করা উচিত? আসলে যেকোনো বিষয়ে বলা খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়লে, বিলম্ব না করে এই মুহূর্তে বলে ফেলাই সবচেয়ে বেশি মঙ্গলের। আপনার জন্যও, অপরজনের জন্যও। এতে অন্যকে শোধরাবার পথ যেমন বাতলে দেয়া যায়, পাশাপাশি নিজের মানসিক স্বস্তিতেও সমান অবদান রাখা যায়৷

জীবনের এই বন্ধুর পথে মানুষ কী করে সঠিক দিশা খুঁজে পায়? ঠিক কী উপায়ে ব্যক্তি তার জীবনকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে? অনেকের ভাবনায় হয়তো অনেক ধরনের উত্তর আসতে পারে। কিন্তু, সর্বজনীন বিশ্লেষণে গেলে, প্রত্যেকের জন্য একটি ব্যাপারই সত্যি; নিজেদের বর্তমান সমস্যাকে চিহ্নিত করা। ঠিক এই মুহূর্তে সঠিক দিশা খুঁজে পেতে এর বিকল্প বোধহয় আর কিছু নেই।

আপনি যদি এখনকার সমস্যা না মিটিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনায় দৌড়ুতে থাকেন, সেক্ষেত্রে হাজারো সুন্দর ভাবনার দেয়ালেও একটা সময় ধ্বস আসন্ন।

এই ক্ষুদ্র মানবজীবনে সবকিছু পরিকল্পনা কিংবা ইচ্ছেমাফিক হয় ও না। তবু আমরা বর্তমানে এমন কিছু ব্যাপারে ভাবি বা ভাবছি, যা হয়তো কোনোদিনই আমাদের হাতে আসা সম্ভব নয়। তবু সেসব প্রায় অহেতুক ভাবনা ছোটখাটো আনন্দকে প্রতিদিনই মাটি করে দিচ্ছে। এখন যা কিছু নিদেনপক্ষে কখনোই আমরা পরিবর্তন করতে পারব না, তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনো অর্থ নেই।

আঙুল ব্যবহারে লিখছি এখন, তড়িৎ ইউনিট ফুরিয়ে যায়নি বলে হাওয়া খাচ্ছি ফ্যানে, মা রান্না বসিয়েছেন, সুস্বাদু রান্নার ঘ্রাণ নাকে লাগছেএইযে বর্তমানে আমরা এতসব সুন্দর অর্জনের সাথে থাকতে পারছি, তার জন্য কি মহৎ এই জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া দরকার নয়? আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত, বর্তমানে যা কিছু পাওয়া গেল, তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। ভাবুন তো, বর্তমান যদি আপনাকে আজ দিতে না পারত, তবে আপনি আগামীকালের সাক্ষাৎ কী করে পেতেন?

প্রতিটি সম্ভাবনার শুরু হয় আজ থেকে, আপনি যা কিছু করতে চান, তার অধিকাংশ লেখা থাকে আপনার বর্তমানে। তাই, যথাসম্ভব উচিত, হাতের নাগালে যে সুযোগই আসুক না কেন, তাকে যথাযথ সম্মানের সাথে গ্রহণ করা। এতে করে, আপনার সম্ভাবনার রাস্তা আরও বেশি প্রসারিত হবে, মসৃণ হবে।

সুখ কিংবা দুঃখ, বরাবরই সব মানুষের জীবনের সত্য দুটো দিক। চাইলেই কেউ দুঃখকে অবহেলা করতে পারে না, আবার চাইলেই কেউ সুখকে ডেকে আনতে পারে না। উভয়ই স্ব-ইচ্ছায় বর্ষীয়ান। আমরা শুধু পারি, সুখের আহ্বানে কিছুটা প্রস্তুতি নিতে। পারি, বর্তমান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রেখে, জীবনের দরকার-অদরকারকে আলাদা করতে।

সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

sanjoydatta0001@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic