একজন ব্যক্তির ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আইইএলটিএস। দেশের বাইরে কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অথবা পেশাগত কারণে সেখানে স্থায়ী হওয়া, ইত্যাদি কারণে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর জরুরি।
আইইএলটিএস ২ ধরনের হয়ে থাকে। এরমধ্যে প্রথমটি হচ্ছে একাডেমিক আইইএলটিএস, যেটি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য করা হয়। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে জেনারেল ট্রেইনিং আইইএলটিএস যেটি পেশাগত কাজে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে লাগে।
আইইএলটিএসে মোট চারটি বিষয়ে দক্ষতা যাচাই করা হয়। বিষয়গুলো হলো লিসেনিং, স্পিকিং, রিডিং এবং রাইটিং। প্রত্যেকটি অংশে ৯ নম্বর করে থাকে এবং প্রাপ্ত মোট নম্বরের গড় ফলাফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
লিসেনিং স্কিল
ইংরেজি চলচ্চিত্র, খবর কিংবা এ সংক্রান্ত জিনিসগুলো যারা নিয়মিত দেখেন, তাদের লিসেনিং স্কিল কিছুটা ভালো থাকে। তাই এ ধাপটিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই এগুলো দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি গান শুনে সেগুলোর উচ্চারণ ও অর্থ খুঁজে বের করার দক্ষতাও এক্ষেত্রে বেশ ফলপ্রসূ।
স্পিকিং স্কিল
আইইএলটিএসে স্পিকিং এ ভালো করার জন্য অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী যদি প্রাত্যহিক জীবনে তার বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিচিতজনদের সাথে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলা অনুশীলন করেন, তাহলে তার পক্ষে স্পিকিং টেস্টে ভালো নম্বর তোলা কিছুটা সহজ হবে। যারা ভবিষ্যতে এ পরীক্ষাটি দিতে চান তারা আগে থেকেই ইংরেজি ভাষায় কথা বলার অনুশীলন শুরু করতে পারেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যক্তির আচরণ কিংবা আত্নবিশ্বাসের উপরও নম্বর বাড়তে পারে। যেমন- পরীক্ষক যখন কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন তখন উক্ত প্রশ্নটির উত্তর আত্নবিশ্বাসের সাথে দিতে হবে। আর এক্ষেত্রে উত্তর দেওয়ার সময় শুধু একটি বা দুইটি শব্দে না দিয়ে পূর্ণ বাক্য ব্যবহার করা উচিত।
পাশাপাশি শব্দ চয়নের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলো কোনো নিদিষ্ট অঞ্চল বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ যা বিদেশি পরীক্ষকরা সবসময় নাও বুঝতে পারেন। ওসব শব্দ ব্যবহারের পর এটি সম্পর্কে কিছু অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করা উচিত যাতে সেটি সবার কাছে বোধগম্য হয়।
রিডিং স্কিল
রিডিং অংশে একজন শিক্ষার্থীকে সাধারনত ৩ টি প্যাসেজ থেকে মোট ৪০ টি প্রশ্নের উওর দিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্যাসেজগুলো কিছুটা দীর্ঘ হয়। তাছাড়া এখানে বিভিন্ন ধরনের বাক্য ব্যবহার করা হয় যার দরুন পরীক্ষার্থীদের কাছে এই অংশটি কঠিন মনে হতে পারে। এ অংশে ভালো করতে প্রচুর পরিমাণে ইংরেজি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
পাশাপাশি ইংরেজি সংবাদপত্র কিংবা ম্যাগাজিন পড়ার অভ্যাসও তৈরি করা যায়। মাথায় রাখতে হবে যার ভোকাবুলারির সংগ্রহ যত বেশি তার পক্ষে প্যাসেজের জটিল অর্থগুলো বোঝা তত সহজ হবে।
আর ইংরেজি উপন্যাস পড়াও এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। কারণ এতে করে ইংরেজি ভাষার অন্তর্নিহিত ভাব আয়ত্ত করার অভ্যাস গড়ে উঠবে।
রাইটিং স্কিল
এ ধাপে একজন পরীক্ষার্থীকে কয়েকটি বিষয়ের উপর লিখতে বলা হয়। এক্ষেত্রে লেখার ভাষা ও গঠনশৈলী সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়।
এ ধাপটিতে ভালো করার জন্য একইসাথে ভোকাবুলারি এবং ব্যাকরণের উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ এতে করে লেখার বিন্যাস অনুধাবন করা সহজ হবে, একইসাথে বাড়বে রিডিং স্কিলও।
এ বিষয়ে মেন্টরসের আইইএলটিএস প্রোগ্রাম সমন্বয়ক ফয়সাল মোহাম্মদ ইউসূফ বলেন, “আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা সাধারনত রিডিং এবং রাইটিং অংশে কম নম্বর পেয়ে থাকেন। এর প্রধান কারন হলো তারা সময় ব্যয় করে ইংরেজি পড়তে চান না। আবার ইংরেজিতে লেখার অভ্যাসও তাদের কিছুটা কম। তাই এ বিষয়গুলোতে অবশ্যই তাদের জোর দেওয়া উচিত।”
কতদিন আগে থেকে আইইএলটিএসের প্রস্তুতি শুরু করা উচিত এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আইইএলটিএসে ভালো করার জন্য শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে বেসিক ভালো থাকতে হয়। আর এর পাশাপাশি ৫-৬ মাস প্রস্তুতি নিলে ভালো নম্বর তোলা সম্ভব।”
বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপি এর অধীনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোর্স করানো হয়। তাছাড়াও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। একটি আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলের স্থায়ীত্ব ২ বছর পর্যন্ত হয়। এরপর প্রয়োজন হলে আবার পরীক্ষা দিয়ে সনদ সংগ্রহ করতে হয়।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
tanjimhasan001@gmail.com
